মিয়ানমার সীমান্তে সংঘর্ষের গুলি এপারে এসে কিশোরীর মৃত্যু, টেকনাফজুড়ে আতঙ্ক
মানব কথা: মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী, আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ছে, সংঘর্ষের কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার ভোরে উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। ১২ বছর বয়সী আফনান হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জসীমের মেয়ে।
ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণের শব্দে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয়রা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ এবং শত শত রাউন্ড গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এপারের বসতবাড়ি কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোড়া গুলি ও মর্টারের আঘাতে সীমান্ত এলাকার চিংড়ি ঘের ও চাষের জমিতে ক্ষতি হচ্ছে। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছে। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, “সারারাত আমরা জেগে ছিলাম, একেকটি বিস্ফোরণে বাড়িঘর কেঁপে উঠছিল। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছিল। মানুষের চিংড়ি ঘরে ও চাষের জমিতে ক্ষতি হচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা মো. ছৈয়দ হোসেন বলেন, “পরিস্থিতি ভয়াবহ, এপারের সাধারণ মানুষ অনিরাপদ মনে করছেন।”
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু গণমাধ্যমকে বলেন, “গত তিনদিন ধরে সীমান্তে দিনে-রাতে গোলাগুলি ও বোমার বিস্ফোরণ চলছে। ”
রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা যুবক আরমান বলেন, “সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আরাকান আর্মির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হচ্ছে। আমি নিরাপদে পালিয়ে আসছি।”
উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির বিষয়টি আমরা জানি।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।















