গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় বিমানের এমডি ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার
মানব কথা: শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার গভীর রাতে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে বীভৎসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা যায়, উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানের এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথির বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিশুর পিতা মোস্তফার দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা মামলা রেকর্ড করে অভিযুক্ত দম্পতিসহ চারজনকে গত রাত সাড়ে ৩টায় গ্রেফতার করে। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোমের মিয়া।
গুরুতর আহত মোহনা বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। চিকিৎসাধীন শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার পিতা।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে মোস্তফা জানান, প্রায় সাত-আট মাস আগে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের এক বাসার সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে তার মেয়ে বীথির কাছে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করে। প্রথম কয়েক মাস মেয়ে সুস্থ ছিল। গত শনিবার বীথি তাকে মেয়েকে নিয়ে যেতে বললে তিনি সেখানে যান। সেখানে তাকে একটি সাদা কাগজে সই করানো হয়। রাতে মেয়েকে ফেরত দেয়া হলে শিশুটির সর্বশরীরে পোড়া ও কাটা দাগ দেখে তিনি ভেঙে পড়েন।
মোহনার পুরো শরীরে পোড়ার চিহ্ন, হাতে কাটা ও সেলাইয়ের দাগ এবং মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছে না, দুধ ও রুটি ভিজিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়াতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এটি শিশু আইন, ২০১৩ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগীর পিতা মোস্তফা বলেন, আমি একজন অসহায় বাবা। আমার মেয়ের সঙ্গে যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি জানান, মামলার পর গত রাতে অভিযান চালিয়ে শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি ও তাদের দুই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রোমের মিয়া বিমানের এমডির জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি আরো জানান, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ।

















