তৃণমূলের ত্যাগী নেতৃত্বকে মন্ত্রিসভায় মূল্যায়নের আহ্বান ভিসি প্রফেসর ড. মিজানের

সময়: 11:44 am - July 6, 2026 |

মানব কথা: ৫ জুলাই ২০২৬ জাতীয় প্রেসক্লাবে চিকিৎসাধীন প্রবীণ শীর্ষ নেতা ও জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের আরোগ্য কামনায় কর্মজীবী দলের বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত,রাজনীতির চরম সংকটে ও দুঃসময়ে যে সকল ত্যাগী নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত ও আগলে রেখেছিলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও দেশ পরিচালনায় তাদের অবদানকে সর্বোচ্চ মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। বিশেষ করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপির আগামী মন্ত্রিসভায় এই পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের অধিক হারে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিক দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে, সুদীর্ঘকালের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতিকে ‘শূন্য’ বা জিরো টলারেন্সে নামিয়ে এনে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এই বিশ্লেষক। আজ দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চিকিৎসাধীন তিন প্রবীণ শীর্ষ নেতা—স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আহত বীর ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ আশু রোগমুক্তি ও আরোগ্য কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি, সোমালিয়ার মোগাদিসুতে অবস্থিত দারু সালাম ইউনিভার্সিটির (DSU) ভাইস চ্যান্সেলর এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান তাঁর বক্তব্যে সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে অত্যন্ত দূরদর্শী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন:

“বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের চরম নিপীড়নের মুখেও যে সকল নেতা রাজপথে বুক চিতিয়ে দলের তৃণমূলকে টিকিয়ে রেখেছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্র সংস্কার ও দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় তাদের মেধা ও ত্যাগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এই পরীক্ষিত ও সংকটকালীন কাণ্ডারিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।” উপাচার্য ড. মিজান আরও যোগ করেন, “রাজনীতিতে প্রতিহিংসার চিরতরে অবসান ঘটিয়ে যাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করছেন এবং দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই দূরদর্শী উদ্যোগের জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই।” দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদর্শিক নেতৃত্বকে ধারণ করেই দেশ ও জাতির প্রকৃত কল্যাণ সাধন সম্ভব।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। প্রাজ্ঞ এই নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে দলের প্রবীণ শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক অবদান এবং জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের আহত ও নিহত যোদ্ধাদের বীরত্বগাথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান পিপিএম-এর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন—কর্মজীবী দলের কার্যকরী সভাপতি মোঃ আলী হোসেন, সহ-সভাপতি ফেরদৌস হাওলাদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদশা, ঢাকা মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব বদরুল আলম সবুজ, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ লোকমান ফকির এবং পল্টন থানা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম আব্বাসসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভা শেষে চিকিৎসাধীন প্রবীণ নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের আহত যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা, এবং দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর