বৈঠকে ওঠেনি ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব, কারণ জানালেন জ্বালানিমন্ত্রী

সময়: 10:18 am - July 23, 2026 |

মানব কথা: দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির জন্য প্রস্তুত করা ১৫টি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে বড় এ আমদানি কার্যক্রম আপাতত কিছুটা পিছিয়ে গেছে। বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিসিইএর বৈঠকে প্রস্তাবগুলো আলোচনার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো তোলা হয়নি। পরে এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সেদিন তিনি সোনারগাঁও হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বৈঠকে যোগ দিতে রওনা দিলেও রাজধানীর তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি। আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় কিছু প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক কম দর এবং নতুন কিছু প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “কেউ যাতে বলতে না পারে, এ কারণে আমরা সবাইকেই সুযোগ দিতে চেয়েছি।” তিনি আরও জানান, প্রস্তাবগুলো দ্রুত পুনরায় উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নীতিগত অনুমোদনের জন্য ভার্চ্যুয়াল বৈঠকও আয়োজন করা হতে পারে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতকে ঘিরে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে পরিশোধিত ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এ পরিকল্পনার আওতায় ওমান, যুক্তরাজ্য, নাইজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, কাজাখস্তান, দুবাই ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিজেল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ওমানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টন ডিজেল কেনার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা সবচেয়ে কম। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টন ডিজেল কেনার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৭০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা সবচেয়ে বড় প্রস্তাব। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারদর ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে আমদানির চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা বাড়তে বা কমতে পারে। তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত অনুমোদন দ্রুত নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর