মাসিক রাষ্ট্রীয় সম্মানীর আওতায় আসছে ৮৬ হাজার ৭০৯ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক রাষ্ট্রীয় সম্মানী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার আওতায় আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০১টি গির্জা। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও কর্মী মাসিক রাষ্ট্রীয় সম্মানী পাবেন। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সোমবার (১০ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
যেভাবে নির্বাচন করা হবে মসজিদ : মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সম্মানী প্রদানের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভাগুলোর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
মন্দির নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি করে মন্দির বাছাই করা হবে। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভা থেকে একটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। বাকি মন্দিরগুলো ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হবে।
কে কত টাকা সম্মানী পাবেন
নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের জন্য মাসিক সম্মানীর হারও নির্ধারণ করা হয়েছে।
- মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজক—৫ হাজার টাকা।
- মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজক—৩ হাজার টাকা।
- মসজিদের খাদেম—২ হাজার টাকা।
সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে পাঠানো হবে।
বাজেটে বরাদ্দ ১১০০ কোটি টাকা:
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানীর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী তিন অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।
পাইলট প্রকল্পে সম্মানী পেয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার জন:
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত, সেবাইতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এ সুবিধা পেয়েছেন। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী এবং প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সেলের সভায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, সম্মানীর পরিমাণ এবং সুবিধাভোগীদের কাছে অর্থ পৌঁছানোর পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে দেশের অধিকাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিরা নিয়মিত রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আসবেন।









