‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফিরেছে’—রাষ্ট্রপতি

সময়: 12:08 pm - September 9, 2026 |

জিয়াউল হক টুটুল:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। তবে এর জন্য জাতিকে অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছে। শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ঋণ রাষ্ট্র কখনোই শোধ করতে পারবে না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, “ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।” জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। দর্শনার্থীর টিকিট নিয়ে জাদুঘরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ বা দীর্ঘ গণতান্ত্রিক যাত্রার ওয়াকওয়ে দিয়ে ঘুরে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন।

রাষ্ট্রপতি দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিহতদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর পরিদর্শন করেন। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। এ ছাড়া তিনি জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন। সেখানে শহীদদের চিঠি, স্মারক ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন ও সংগ্রামের নানা স্মৃতি ঘুরে দেখার পর জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। প্রামাণ্যচিত্রটি দেখার সময়ও তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি।

‘জুলাইয়ের চেতনায় মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হবে’

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। রাষ্ট্রপতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও সংরক্ষিত দলিলপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর