এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করলে শাস্তি: শিক্ষামন্ত্রী

সময়: 12:18 pm - September 15, 2026 |

তালুকদার বেলাল:

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি করা পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাতা মূল্যায়নকারী শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩০৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেল। তাহলে তো প্রশ্ন ওঠে—এত কীভাবে বাড়লো? এখন কি এ পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে না? যে শিক্ষক পরীক্ষকরা খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদের শাস্তির মুখে পড়তেই হবে।’

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সময়মতো বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বইগুলো সময়মতো যায় কিনা, সেটা নিয়ে আমরা অনেক ব্যস্ত রয়েছি। অনেক ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা দায়িত্বে এসেছি। দুর্নীতিতে যখন সব জর্জরিত, আমরা তখন এসেছি। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ।’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন কোর্স চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সেশনজট থাকবে না। আমি চাই, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেক্সট রেজাল্টও যেন ভালো হয়। শিক্ষার্থীরা পাস করে আর বেকার থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম মনিটরিং জোরদার করতে হবে। সময়ের চাহিদা বিবেচনায় কারিকুলাম পরিবর্তন এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কোর্স চালু করার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশেষ করে ল’ কোর্সের ফরম পূরণের ফি বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রচুর আয় করছে। ল কোর্সের ফরম ফিলাপের ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হয়েছে। কেন? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কী টাকা আয় করা এবং বাড়ানোর জন্য? টাকার এত প্রয়োজন কেন?’ শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা চলবে না। আমিও ট্রিগার টানতে জানি। সব সমস্যার সমাধান করবোই।’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবার প্রথমবারের মতো ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে। অনুষ্ঠানে ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। অতিথিরা নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর