পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা হলে অভিযান চলবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

সময়: 7:16 am - October 3, 2026 |

মোঃ সাব্বির আহমেদ:

নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে রাজধানীর দখল হয়ে থাকা ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। একই সঙ্গে দখলমুক্ত করা ফুটপাত কেউ পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ দখল করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী ও হকার ফুটপাতের ওপর চকি, মাচা ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা বসিয়ে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন। নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে এসব দখল পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে বেশি দখল থাকা এলাকাগুলোর একটি মিরপুর-১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করেছেন। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর নগরবাসীর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, অনেকে জানিয়েছেন, ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে তারা ওইভাবে ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে পারেননি। ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, যেসব এলাকায় এখনও ফুটপাত দখল হয়ে আছে, সেসব এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। কেউ দখলমুক্ত করা ফুটপাত পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দখলমুক্ত করা ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় জনগণ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় ফুটপাত এলাকায় পর্যবেক্ষণ করছে। এ ছাড়া ফুটপাতে কাউকে বসতে না দেওয়ার বিষয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, ফার্মগেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু ফুটপাত দখল রয়েছে। এসব এলাকায় এর আগে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি এলাকাগুলোতেও দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে। ফুটপাত দখল নিয়ে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সিটি করপোরেশনই নিয়েছে। তিনি নিজে বিএনপির একজন কর্মী উল্লেখ করে বলেন, নিজের উদ্যোগে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করা হচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার আগে কাউকে জানানো প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন, সেখানে কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, যে এলাকায় প্রয়োজন হবে, সেখানেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করা হবে। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কিছু কুচক্রী মহল সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। দলের ভেতরে ও বাইরে যারা দুষ্কৃতিকারী হিসেবে কাজ করছে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে গণমাধ্যমে যেভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, একইভাবে নগরবাসীর প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরতে হবে। জনগণের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হলে এ বিষয়ে আরও সচেতনতা তৈরি হবে। তিনি বলেন, নগরবাসী সচেতন হলে এবং সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করলে বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নগরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এ সময় ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর