রেমিট্যান্সে ধীরগতি, সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার

সময়: 7:26 am - October 3, 2026 |

 জিয়াউল হক টুটুল:

দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগের মাস আগস্টে দেশে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরের রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ২০ কোটি ৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স বেড়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮ কোটি ডলার বা প্রায় ৩ শতাংশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় সেপ্টেম্বরের ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে এই হিসাব করা হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস দেশে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল। এর মধ্যে চলতি বছরের মার্চে একক মাসে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় আসে। মে মাসে আসে ৩৪৪ কোটি ২৬ লাখ ডলার এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। এই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়। তবে জুন থেকে মাসভিত্তিক প্রবাসী আয় আবার ৩০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে। সাম্প্রতিক চার মাসেও রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করেনি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে প্রায় ২৮২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে। এরপর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে। কিন্তু সেপ্টেম্বরে তা আবার কমে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমে আসে। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে মাসভিত্তিক ওঠানামা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি রয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২৯ তারিখ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ছিল বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে বাসস জানিয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড তৈরি হয়। পুরো অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠান। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও সামগ্রিক বৈদেশিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিন পর্যন্ত দেশে ৭ দশমিক ৮১৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুন্ডির প্রবণতা কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ করার ফলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ওঠানামা করাকে স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানেও দেখা যাচ্ছে, মাসভেদে রেমিট্যান্সে কমবেশি হলেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে সামগ্রিক প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় বেশি রয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরে ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এলেও অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবে এখনো প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর