সময়: 8:50 am - October 3, 2026 |
নেছার আহমদ :
সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৌশলগত সংলাপ ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) পঞ্চমবারের মতো এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। শনিবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দিয়ে সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন নির্বাচিত সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জনগণের শক্তিশালী ম্যান্ডেট নিয়ে আমাদের নতুন সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে একটি স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা এখন সরাসরি প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত হচ্ছি।”প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় এবং একটি অন্যতম উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে তরুণদের ব্যাপক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সমুদ্রভিত্তিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দরসমূহ, জলপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি আমাদের বিশ্বমঞ্চে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, জলবায়ু এবং সামুদ্রিক অর্থনীতিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা আরও গভীর হওয়া উচিত, যাতে বঙ্গোপসাগর একটি যৌথ সমৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।” এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়টি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। সিজিএসের আয়োজনে এবারের সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন এ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ (পুনর্লিখিত এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার নতুন পথচলা)। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন চলবে এই সম্মেলন। সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও তথ্যের ক্ষমতা, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকরা বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
সিজিএসের সভাপতি ও জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক জিল্লুর রহমান জানান, এবারের আন্তর্জাতিক সংলাপে ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জনের বেশি প্রতিনিধি এবং ১ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী সেশনে বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের হাই-প্রোফাইল কূটনীতিক, গবেষক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এবার আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন সিজিএসের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।