শিশুদের মেধা-প্রতিভা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সময়: 6:32 am - October 6, 2026 |

বিশেষ প্রতিনিধি:

শিশুদের নিজেদের প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের যথাযথ বিকাশের ওপর। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ আয়োজন মূলত শিশুদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। তিনি শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু লেখাপড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের আগ্রহ ও প্রতিভা অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনিও শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন। আজকের শিশুদের মতো তিনিও একসময় শিশু একাডেমিতে এসেছিলেন বলে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে নিজের ও ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত বোর্ডে নিজের একটি গল্প ও ছোট ভাইয়ের লেখা দেখে পুরোনো স্মৃতি ফিরে এসেছে বলেও জানান তিনি। শিশুদের বিভিন্ন প্রতিভার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ ভালো ছবি আঁকে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করে, কেউ গান, নাচ কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে। প্রত্যেক শিশুর ভেতরে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে। সেই গুণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন যথাযথ সুযোগ।

তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, শুধু পড়ালেখা নয়, খেলাধুলাও করতে হবে। পাশাপাশি যেসব শিশু গিটার, হারমোনিয়াম, বাঁশি বা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে আগ্রহী, তাদেরও তা ভালোভাবে শেখার সুযোগ নিতে হবে। গান, নাচ কিংবা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি আগ্রহ থাকলেও সেই প্রতিভা বিকাশে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।তিনি জানান, প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারা দেশে ২২ লাখ শিশু—১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে—ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে এখান থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। শিশুদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমও নতুন করে চালু করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত ক্রীড়া আয়োজনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, শিশুদের শুধু সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় নয়, খেলাধুলাতেও পারদর্শী করে তুলতে হবে। একটি শিশুর শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার অন্তত একটি ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সন্তানদের এসব সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকেই এসব সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সেই গুণ বিকাশের উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করা। সুযোগ পেলে শিশুরা নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করে ভবিষ্যতে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।তিনি জানান, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটি গুছিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৭ অথবা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রস্তুত করতে স্কুল পর্যায় থেকেই অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দের একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। ভাষাজ্ঞান ও অন্যান্য ব্যবহারিক দক্ষতা ভবিষ্যতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। শিশুদের শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা ভাষাজ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; তাদের মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি শিশুদের দেশের প্রকৃতি, পশুপাখি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাড়ি, স্কুল কিংবা আশপাশের এলাকার গাছের যত্ন নিতে হবে। পশুপাখির প্রতিও সদয় হতে হবে। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ, সঠিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আগামী দিনের দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর