আজ মহাসপ্তমী, দেবী দুর্গার আরাধনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা
মানব কথা ডেস্ক:
শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহাসপ্তমী আজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিন দেবী দুর্গার শক্তি, কল্যাণ ও অশুভ শক্তির বিনাশের আরাধনা করা হয়। পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করবেন ভক্তরা। মহাসপ্তমী উপলক্ষে সকাল থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে। দেবীর কাছে পরিবার, সমাজ ও দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে মণ্ডপে মণ্ডপে ছড়িয়ে পড়বে উৎসবের আমেজ। মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান আচার নবপত্রিকা স্নান ও পূজামণ্ডপে এর প্রবেশ। প্রচলিত ভাষায় নবপত্রিকা ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। কলাগাছ, কচুগাছ, হলুদগাছ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ—এই নয়টি উদ্ভিদ একত্র করে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়। শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে পূজামণ্ডপে নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ আচার প্রকৃতি ও উদ্ভিদজগতের সঙ্গে দেবী আরাধনার গভীর সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। পূজাবিধি অনুযায়ী, বিভিন্ন পবিত্র জল ও উপকরণ ব্যবহার করে দর্পণে প্রতিফলিত প্রতিমার উদ্দেশ্যে স্নান সম্পন্ন করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট মন্ত্র ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবীর ঐশ্বরিক উপস্থিতি আহ্বানের রীতি পালন করা হয়। মহাসপ্তমীর পূজায় দেবী দুর্গাকে ষোড়শোপচারসহ প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিধিতে আরাধনা করা হয়। মন্ত্রপাঠ, পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ভোগ নিবেদন ও আরতির মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিবেদন করেন। সকালে পূজা শেষে ভক্তরা ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবেন। দেবীর আশীর্বাদ কামনায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সমবেত হবেন ভক্তরা। দিনভর পূজা-অর্চনার পাশাপাশি বিভিন্ন মণ্ডপে প্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় আয়োজন চলবে।
মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় ধূপ, প্রদীপ ও অন্যান্য পূজাসামগ্রী দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যারতি। ঘণ্টা, শঙ্খ ও ঢাকের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপের পরিবেশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং মণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির বিজয় এবং শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেন ভক্তরা।









