প্রধানমন্ত্রীর আগমনে চট্টগ্রামে সাজ সাজ রব, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস
মানব কথা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে চট্টগ্রামে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। এ সফর উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের প্রধান সড়ক ও ফ্লাইওভারে নতুন রঙ করে শোভাবর্ধন করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ-ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রামে তারেক রহমানের প্রথম সফর উপলক্ষ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন। মহেশখালীতে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরসহ কয়েকটি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে শেষে তিনি বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন। বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় যোগদান করবেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি দলের নেতাকর্মীদের মতামত নেবেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বাসসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এখানে যে সাংগঠনিক সভা করার উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খুবই খুশি। তারা প্রধানমন্ত্রীর সামনে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে চান, প্রধানমন্ত্রী তাদের সেই সুযোগ করে দিচ্ছেন।’
সভায় কারা অংশ নেবেন- এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শওকত আজম খাজা জানান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ৫৩ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির সবাই, ৪১ ওয়ার্ড বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব, যুবদল-ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক-মহিলা দলের ‘সুপার ফাইভ’ এবং এর বাইরে দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মী; যারা সঙ্গত কারণে বর্তমানে কোনো পদ-পদবিতে নেই, তারাও প্রধানমন্ত্রীর সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তালিকা করে সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মহানগরে এই সংখ্যা সাড়ে তিনশ’র মতো, একইভাবে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকে আরও আর আড়াইশ’ নেতাকর্মী এ সভায় অংশ নেবেন।’ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বাসস’কে বলেন, ‘সভায় কারা কথা বললেন সেটা প্রধানমন্ত্রী নিজে ঠিক করবেন। আমরা কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি রেখেছি, স্পিকারও রেডি আছে। প্রধানমন্ত্রী সবার কথা শুনতে চান, তিনি যাকে ইচ্ছে তার কাছ থেকে জানতে চাইতে পারেন।’
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বাসসকে বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা। জিয়া পরিবারের প্রতি এখানকার মানুষের ভালোবাসা অপরিসীম। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে আজ পুরো চট্টগ্রামে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ছাড়াও পুরো চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। এটা সত্যিই আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) কাজ করছে জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দায়িত্ব পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ সূত্র : বাসস









