গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা বা ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী

সময়: 12:46 pm - October 5, 2026 |

মানব কথা ডেস্ক:

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার কোনো চেষ্টা করছে না এবং এ ধরনের কোনো ইচ্ছাও সরকারের নেই। সোমবার (৫ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক সুরক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহের মাধ্যমে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার—দুই বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে নীতিগত ও বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে গণমাধ্যমে দায়িত্বশীল ও মানসম্মত সাংবাদিকতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অফিস অব কমিউনিকেশনস বা ‘অফকম’ এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। সারাহ কুকের মতে, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের পাশাপাশি তথ্য যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে অপতথ্যের বিস্তার মোকাবিলা করা সহজ হবে।

বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছালেও একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং জনগণকে অপতথ্য থেকে সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার, গণমাধ্যম মালিক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর