নির্ধারিত দামে এলপিজি না পেলে ব্যবস্থা, ডিসিদের নজরদারির নির্দেশ:তথ্য উপদেষ্টা

সময়: 8:42 am - October 6, 2026 |

মানব কথা ডেস্ক:

নির্ধারিত মূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে সরকার বাধ্য হয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত দামেও কোথাও এলপিজি পাওয়া না গেলে বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা হবে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কোথাও যদি এলপিজির সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয় কিংবা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ এলপিজি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা জনঅসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করলে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজির আমদানি, মজুত, সরবরাহ পরিস্থিতি ও বাজারদর পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও অপারেটরদের পক্ষ থেকেও দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি, মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দামে ওঠানামার প্রবণতা থাকলেও দেশে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে অসাধু কোনো পক্ষ যাতে মজুতদারি করে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ব্রিফিংয়ে ভিজিএফ কর্মসূচি নিয়েও সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিজিএফ কার্যক্রমের আওতায় চালের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে ভিজিএফের আওতায় একজন উপকারভোগীকে ১০ কেজি চাল দেওয়া হতো। এখন থেকে সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ কেজি চাল দেওয়া হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় থাকা নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী আগের তুলনায় বেশি খাদ্য সহায়তা পাবেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মানুষের ওপর চাপ কমাতে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এলপিজির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমদানি, মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরকারের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্যে ভোক্তারা এলপিজি পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর