রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ

সময়: 11:18 am - October 6, 2026 |

মানব কথা ডেস্ক:

মিয়ানমারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অনিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ারপার্সন আফসানা বেগম এমপির নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাক্ষাৎকালে হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক উদ্বেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমি মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলে হাউস অব কমন্সের সদস্য শওকত আদম এমপি এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেনও ছিলেন। আগামীকাল প্রতিনিধিদলটির রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা লাঘবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তারা রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

সাক্ষাতে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক এপিপিজির ধারাবাহিক আগ্রহের প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও জোরদারে গ্রুপটির ভূমিকার প্রশংসা করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ ও সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে এপিপিজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে তুলে ধরার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা বাড়াতে তিনি গ্রুপটির সহযোগিতা কামনা করেন। বৈঠকে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময়, গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহও প্রকাশ করা হয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর