স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে জামায়াত নেতাদের নির্দেশনা:গোলাম পরওয়ার

সময়: 11:24 am - October 10, 2026 |
শহিদুল ইসলাম:

গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংগঠনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জনগণের সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সংগঠনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সুপরিকল্পিতভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) সিলেট নগরীর মদিনামার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে সিলেট অঞ্চল জামায়াত আয়োজিত জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না করে তাঁদের কথা শুনতে হবে। দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ত্যাগ, ধৈর্য ও অবিচলতার কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের আত্মত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীলদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ, আরাম-আয়েশ ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ঈমানি দৃঢ়তা, নৈতিক শুদ্ধতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ধারণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংগঠনের প্রার্থীদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হলে আগেভাগেই সুপরিকল্পিত কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এলাকার মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম সাজাতে হবে। প্রার্থীদের যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততা মানুষের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, ঘরে ঘরে মতবিনিময় এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জন ও জনসমর্থন বাড়াতে দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সিলেট অঞ্চল জামায়াতের পরিচালক ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের পরিচালনায় শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেট মহানগর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নায়েবে আমির, সেক্রেটারি এবং কর্মপরিষদ সদস্যরা অংশ নেন। শিক্ষাশিবিরে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সিলেট অঞ্চল টিমের সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা আমির কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সিলেট মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী এবং জেলা সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীনসহ অন্য নেতারা।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের দায়িত্বশীলদের নৈতিক ও সাংগঠনিক মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার বিকল্প নেই। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং জবাবদিহির মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করার মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে হবে। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালনে সবাইকে আরও আন্তরিক ও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর