কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কুমিল্লায় ফের ৫১৯ জন আটক

সময়: 10:17 am - October 16, 2026 |
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আবারও জেলাজুড়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে ৫১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং উঠতি বয়সী কিশোরদের উৎপাত রয়েছে—এমন এলাকাগুলোকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও ডিবি সদস্যরা এতে অংশ নেন। কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে। এর আগে গত ১১ অক্টোবর সপ্তম দফার অভিযানে ৩৫৩ জন এবং ৮ অক্টোবর ষষ্ঠ দফার অভিযানে ২৫২ জনকে আটক করা হয়। তবে ওই দুই দফায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে কতজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং কতজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জেলা পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপরাধে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকায় লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই কিশোরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুই কিশোরসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসার পর কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলার ১৮টি থানা ও ডিবির সমন্বয়ে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক সংশ্লিষ্টতা, বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর