‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সময়: 10:44 am - October 21, 2026 |

মানব কথা ডেস্ক:

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণে দায়িত্বশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সাংগঠনিক ঐক্য জোরদারের মাধ্যমে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না, সেগুলো বাস্তবে রূপ দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে কাজ করতে হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগরের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রেডিসন ব্লুতে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। সভা পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই দলের প্রধান কর্তব্য। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের আন্তরিক হতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ কী চায়, তাদের প্রত্যাশা কী এবং কোন সমস্যাগুলো তাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে, সেগুলো বুঝতে হবে। মানুষের কথা শুনে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। নেতাকর্মীদের আচরণ এমন হতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছ থেকে সহযোগিতা ও সেবা পান। তারেক রহমান আরও বলেন, এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারলেই রাজনৈতিক কার্যক্রম সফল হবে। নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা নেতাকর্মীদের দায়িত্ব।

বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। এ সময়ে অনেকেই বিভিন্ন বাধা ও চাপের মুখে পড়েছেন। তাঁদের ত্যাগ ও অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেকোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝে বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো এলাকার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা অন্য দায়িত্বশীল নেতাদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নিজেদের মধ্যে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে। নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ থাকলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই সবাইকে একসঙ্গে বসে নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর