দুর্নীতি–অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আজমুল হক ঢাকায় বহাল তবিয়তে

সময়: 11:39 am - November 26, 2025 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত শত কোটি টাকার মালিক মোঃ আজমুল হকের পাহাড় সমান দুর্নীত ও অনিয়ম করে এখনও ঢাকায় বহাল তবিয়তে।

দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আজমুল হক টাকা ও ফ্যাসিবাদ সরকারের দাপটে এবং টাকার পাহাড় ও বিপুল সম্পদের মালিক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার হওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগে পেয়েছেন প্রাইস পোস্টিং। এই পোষ্টিং বাগাতে তিনি ফ্যাসিবাদ সরকারের মন্ত্রী ও সচিবদের সাথে বিরাট অংকের টাকা দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন হলেও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আজমুল হক দুর্নীতি করে কামানো অর্থ দিয়ে গোটা গণপূর্ত অধিদপ্তর দাপিয়ে বেড়িয়ে আবারও গুরুত্বপূর্ন পোষ্টিং গত ০২ অক্টোবর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামীম আখতার স্বাক্ষরিত পত্রে মোঃ আজমুল হক কে প্রধান প্রকৌশলীর ষ্টাফ অফিসার প্রটোকলের মত গুরুত্বপূর্ন পদে পদায়নের আদেশ জার্রি করেন। নতুন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী তাকে বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের রিজার্ভে রেখেছেন। দুর্নীতির দায়ে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। আজমুল হক ২০২১-২২ অর্থ বছরে ২৪৫ টি বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা এপিপি বাবদ ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ পায় ও একই অর্থ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বরাদ্দ পায় আরও ১০ কোটি টাকা সব মিলিয়ে ২২ কোটি টাকা। উক্ত কাজে দরপত্র এলটিএম পদ্ধতিতে আহবানের প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন থাকলেও দরপত্র আহবান করা হয়েছে ওটিএম পদ্ধতিতে যা সম্পুর্ন বে-আইনি এবং মোটা কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার কৌশল অবলম্বন মাত্র। এছাড়া কাজের বিপরীতে NoA ও চুক্তি সম্পাদন করা হলেও কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় নি সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায় ৩০% বেশি কাজ বাস্তবায়িত হয়নি ফ্যাসিবাদ সরকারের লীগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তারা এর বেশি বাস্তবায়ন করেন নি। মোঃ আজমুল হক মুন নারী কেলেংকারী কাহিনী পর্ব গত ৯ অক্টোবর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ সকাল ১০ টার পর হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আজমুল হক। তার অফিস , সার্কেল, জোন, পূর্ত ভবন কিংবা সাইটে কোথাও পাওয়া যায় না, মুঠোফোন কত সময় বাজলেও কল রিসিভ করছিলেন না, এর পর টানা কয়েক ঘন্টা মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনি নিজেই ফোন করেন তৎকালীন শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানাকে , পাচটি বিকাশ নাম্বারে তিন লক্ষ টাকা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। তার বন্ধুবর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা সম্ভাব্য বিপদ আচ করতে পেরে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে অবহিত করেন যে, নির্বাহী প্রকৌশলী আজমুল হক সম্ভবত অপহরন হয়েছেন। যেহেতু আজমুল হকের স্ত্রী ও সন্তান আমেরিকায় থাকে সে জন্য তিনি সত্যিই অপহরনের স্বীকার হলে তা তার সহকর্মীদেরই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। অসংখ্য বার ফোন বা হোয়াটস্ অ্যাঁপে কল করেও যখন তাকে পাওয়া যায় না তখন সন্দেহ দানা বাধে যে তিনি সম্ভবত সত্যিই অপহরণ এর স্বীকার হয়েছেন, নতুবা কোন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন দায়িত্ববান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজমুল হক কে উদ্ধারে পুলিশের সাহায্য চান। পুলিশ তৎক্ষণাৎ প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান সনাক্ত করেন। শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা, খুলতে থাকে রহস্যের জাল। যা জানা গেল তাতে সবাই বাকরুদ্ধ । তাকে পাওয়া গেল খিলগাও এর তিলপা পাড়ার এক বাসাতে। অথচ তার ড্রাইভার জানেন না তিনি কোথায় গিয়েছেন। ড্রাইভারের ভাষ্যমতে খিলগাও রেঈল গেটের কাছে তিনি নেমে গিয়ে বলেন, আমি এক অত্মীয় বাসায় যাব। অনেক দিন আগে এসেছিলাম, ঠিক কোন বাসাটা তা মনে নেই। খুজতে হবে। আমার দেরি হবে। তুমি চলে যাও। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। ড্রাইভারও চলে আসেন। তার তথাকথিত অত্মীয় আর সঙ্গী সাথীরাই তাকে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি তুলে আটকে রেখে টাকা দাবী করেন। মুলত আজমুল হক দিনে দুপুরে অপর এক বিবাহিত নারীর সাথে পরকীয়া করতে গিয়েছিলেন। এমন অসংখ্য বেগানা নারীর সাথে তার ফোনে যোগাযোগ রয়েছে, যাদের সাথে স্বামী ঘরে না থাকলে তিনি অফিস টাইমে টাকার বিনিময়ে সেচ্ছায় যৌন সম্পর্ক করে থাকেন। কিন্তু সেই দিন একটু বিধিবাম। একজন বিসিএস কর্মকর্তার চারিত্রিক স্খলন কি শাস্তি যোগ্য অপরাধ।ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) সাতটি শৌচাগারে টাইলস বসানো ও মেরামত কাজের নামে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার খরচ দেখানো হয়েছে। একইভাবে কয়েকটি বিভাগের কক্ষ, জিমনেশিয়াম, সীমানা প্রাচীর ও জানালা সংস্কারের নামে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু কাজ দায়সারাভাবে করে এবং কিছু কাজ না করেই ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। তবে এই খরচকে অতিরঞ্জিত বলছেন কলেজের সাধারণ চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেলের অবকাঠামো উন্নয়নে স্থাপনাগুলোর মেরামত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে গত বছরের ১৯ জুন ঢামেকের তৎকালীন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শফিকুল আলম চৌধুরী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অর্থ বরাদ্দের আবেদন করেন।

পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ও মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ হয়। কাজের তদারকির জন্য ঢামেকের তৎকালীন উপাধ্যক্ষ (পরে অধ্যক্ষ হন) ডা. মো. শফিকুল আলম চৌধুরীকে সভাপতি করা হয়। এছাড়া রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন শাহরিয়ার নবীকে সদস্য এবং ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রদ্যুত কুমার সাহাকে সদস্য সচিব করা হয়।

তদারক কমিটি গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শেষ হওয়া সংস্কার/মেরামত কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদনের একটি কপি মানব কথার কাছে এসেছে। যেখানে অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে কাজের মানের আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা গেছে।

তালিকা অনুযায়ী ঢামেকের ডা. ফজলে রাব্বি হলের ডি-ব্লকে ৮টা কক্ষে চারটা শৌচাগারের টাইলস মেরামতের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ লাখ টাকা। ডা. আলীম চৌধুরী (নতুন) ছাত্রী হোস্টেলের বাথরুম ও শৌচাগার সংস্কার, টাইলসকরণ ও স্যানিটারি ফিটিংস বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। ডা. মিলন ইন্টার্নি ছাত্রী হোস্টেলের বাথরুম ও শৌচাগারে টাইলস লগানো ও স্যানিটারি ফিটিংস সংস্কারে ৩০ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

এছাড়া ঢামেক আওতাধীন কলেজ ও ছাত্রী হোস্টেলের ক্যান্টিনের শৌচাগার মেরামতে ১২ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সবমিলে সাতটি শৌচাগার মেরামতের নামে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার খরচ দেখানো হয়েছে।

মেডিকেল কলেজের দক্ষিণ পাশের ভেতরের চত্বরসংলগ্ন অংশের নিচতলা থেকে চতুর্থতলা পর্যন্ত কাঠের জানালার পরিবর্তে থাই অ্যালুমিনিয়ামের জানালা স্থাপনে ১৭ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও শিক্ষক বলছেন, কাগজে-কলমে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ডা. ফজলে রাব্বি হলে জিমনেশিয়াম তৈরির কথা বলা হলেও তার কোনো ছিটেফোঁটা নেই। শৌচাগারগুলোতে নিম্নমানের টাইলস, কমোড বসানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি শৌচাগারের সিটকানি পর্যন্ত লাগানো হয়নি। অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই আজমুল হকের নামে বেনামে অঢেল সম্পদের বনানী ১৪ নং সেক্টরে একটি বিলাস বহুল এপার্টমেন্ট আছে, মোহাম্মদপুর একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের কোটায় হাউজিং এর স্বপ্ন নগর-১ প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট বাগিয়ে নিয়েছেন এভাবে তিনি সরকারি ও নিজেই কিনে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এছাড়া জনতা ব্যাংক রমনা শাখা তার একাউন্টে রয়েছে বিপুল পরিমান টাকা ও ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের বিজয়নগর শাখায় তার ব্যক্তিগত একাউন্টে বিপুল পরিমান টাকার লেনদেন আছে মজার বিষয় এখানে তিনি থেমে থাকেন নি দেশের বাহির আমেরিকায় তার স্ত্রীর থাকার সুবাদে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার করে আমেরিকায় সম্পদ ক্রয় করছেন বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে জোর গুঞ্জন শোনা যায়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর