গণপূর্ত প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবীর অভিনব প্রতারনা, সরকারি জমি বেহাতের গুরুতর অভিযোগ থাকলেও শাস্তি শুধুই তিরস্কার!

সময়: 11:26 am - January 21, 2026 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর জোয়ারদার তাবেদুন নবী ছয় কোটি টাকা ঘুষ গ্রহন করে মিরপুর সেকশন নয়(৯) এর বিশ একর জায়গার ছাড়পত্র দেওয়ায় জমিতে ভবন নির্মান চলেছে ও বেদখল হয়েছে। জোয়ারদার তাবেদুন নবী নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন নীরব থেকে ভূমি দস্যুদের সাথে যোগ সাজসে সরকারি জমিতে বহুতল ভবন হতে দিয়েছেন। মহিউদ্দিন গং নিকট থেকে ছয় কোটি নিয়ে বদলী হওয়ার পর দায়িত্বভার হস্তান্তর করার আগের দিন হাউজিং ডিভিশন-১, ঢাকার স্মারক নং ৩০১৫ তারিখ ঃ ২০-০৮-২০২৪ খ্রিঃ মাধ্যমে পূর্বের সকল জারিকৃত পত্র বাতিল করে ছাড়পত্র প্রদান করে চেয়ারম্যান রাজউক, ঢাকা, সহকারী কমিশনার মিরপুর সার্কেল, ঢাকা, অথরাইজড অফিসার-৩/১ রাজউক, ঢাকা ও সাব রেজিষ্টার পল্লবী, তেজগাও ঢাকা কে পত্র দেন। ফলে দীর্ঘ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়ে ভূমি দস্যুরা দেদারসে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পায়। উক্ত বিশ একর জমি ছাড়পত্র দেওয়ার মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর জোয়ারদার তাবেদুন নবীর নামে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে। কিন্তু তাকে সাময়িক বরখাস্ত না করে তিরস্কারের শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ঢাকা ডিভিশন-১ এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী ,নিজেকে সব সময় সাইফুজ্জামান শিখর অত্মীয়পরিচয় দিয়ে তিন বছর আট মাস দায়িত্ব পালন করে লুটপাট তন্ত্র কায়েম করে গেছেন। সে সময়ে আরেক আওয়ামী পান্ডা শেখ সোহেল রানা, ইমামুল, শাহারিয়ার জনি ও রাদিউজ্জামানদের সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন । মিরপুরের সকল জমির অঘোষিত মালিক বনে যান হাউজিং চেয়ারম্যান নাম মাত্র আসে আর যায় তারাই জমি দখল বরাদ্দ, নামজারি, আবাসিক প্লট বানিজ্যিক প্লট রুপান্তর, বানিজ্যিক প্লট কে শিল্প প্লট এ রুপান্তর, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ফ্ল্যাট ও প্লট পাইয়ে দেওয়াতে শুরু সকল কাজ মিরপুরের নিয়ান্ত্রন করতেন জোয়ারদার তাবেদুন নবী অঘোষিত চেয়ারম্যান। অঘোষিত চেয়ারম্যান জোয়ারদার তাবেদুন নবীর একটি গার্ল ফেন্ড ছিল যার এ্যাড. তানিয়া রহমান পিতা খন্দকার আব্দুস সামাদ মাতা সুফিয়া সামাদ তার স্বামী মিরপুর হাউজিং ডিভিশনে নিয়ে আসতেন তার স্বামী পাহারাদারের ভুমিকায় থাকতো তানিয়া রহমান ও জোয়ারদার তাবেদুন নবী অফিস রুমে একান্ত সময় কাটাতো ওই সময় সকল প্রবেশ নিষেধ থাকত এটা অফিসের সবাই জানতো আওয়ামীলীগ ফ্যাসিবাদ সরকারের ভয়ে কেউ তখন মুখ খুলত না যে এটা অফিস না অন্য কিছু। তানিয়া রহমান ফ্ল্যাট ও প্লট দুটোই জোয়ারদার তাবেদুন নবী কে বাগিয়ে নিয়েছেন ও অসংখ্য জমির দালালি করেছেন রাতারাতি কোটি কোটি কামিয়েছেন।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ঢাকা ডিভিশন-১ এর মিরপুরস্থ হাউজিং এস্টেটের বাউনিয়া মৌজাস্থ ৯ নং সেকশনের স্বপ্ননগর-২ প্রকল্পের উত্তর পার্শ্ব সংলগ্ন জায়গাটি গৃহসংস্থান অধিদপ্তর বর্তমানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নামে এল, এ. কেস নম্বর-০৫/৭২-৭৩ ও ১৩/৫৯-৬০ মূলে অধিগ্রহনকৃত ও ১৩/০৯/১৯৯০, ৩১/১০/১৯৭৪ ও ১৮/১২/১৯৮০ খ্রি: গেজেটভুক্ত সম্পত্তি। আলোচ্য সি. এস. ৩১০১, ৩১০২, ৩১০৩, ৩১০৪, ৩১০৬, ৩১০৭, ৩১০৮, ৩১২০, ৩১২১, ৩১২২, ৩১২৩, ৩১২৪, ৩১২৮ নং দাগের কম/বেশী ২০.০১ একর জায়গার জে, এল, নম্বর-২২১, যা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ দখলদারগণ যথাক্রমে আলিনগর, হ্যাভিলি লিমিটেড, এ্যাসিউর, সাগুপ্তা হাউজিং, এন,এম, হাউজিং লিমিটেড, সানভিউ টাওয়ার্স, আরএকে-২ , সিটি লাইফ প্রোপাটিজ লিঃ, প্রফেসর মো: আবু বক্করসহ ১৭ (সতের) কোম্পানী/ব্যক্তি কর্তৃক অবৈধভাবে দখলে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আলিনগর, হ্যাভিলি, এ্যাসিউর, সাগুপ্তা হাউজিং কর্তৃক বর্ণিত জায়গায় প্লট তৈরী করে বিভিন্ন লোকের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা যায়। জোয়ারদার তাবেদুন নবী নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন মহিউদ্দিন গং নিকট থেকে ছয় কোটি নিয়ে বদলী হওয়ার পর দায়িত্বভার হস্তান্তর করার আগের দিন হাউজিং ডিভিশন-১, ঢাকার স্মারক নং ৩০১৫ তারিখ ঃ ২০-০৮-২০২৪ খ্রিঃ মাধ্যমে পূর্বের সকল জারিকৃত পত্র বাতিল করে ছাড়পত্র প্রদান করে চেয়ারম্যান রাজউক, ঢাকা, সহকারী কমিশনার মিরপুর সার্কেল, ঢাকা, অথরাইজড অফিসার-৩/১ রাজউক, ঢাকা ও সাব রেজিষ্টার পল্লবী, তেজগাও ঢাকা কে পত্র দেন। উক্ত বিশ একর জমি ছাড়পত্র দেওয়ার মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর জোয়ারদার তাবেদুন নবীর নামে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে কিন্তু তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় নি। তাই জোয়ারদার তাবেদুন নবী হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়ার সুবাদে তিনি বিভিন্ন তদবির করে বিষয়টি দামাচাপা দেওয়ার জন্য কোটি কোটি খরচ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় জমিটি এখনও ১৭ কোম্পানী /ব্যক্তিদ্বয়ের দখল করে ভবন নির্মান করছেন হাইজিং এর দখলে নেই। এ বিষয় পরবর্তী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কায়সার ইবনে সাঈখ বলেন আমাদের লোকজন জমি উদ্ধার করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আহত হয়েছেন আমরা মামলা করছি যা জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অবহিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ ও নির্দেশনা চেয়ে গত ১৭ সেপ্টম্বর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হেড অফিস পত্র দেয়া হয়েছে , জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হেড অফিস থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করলে আমি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে পারবো। পরবর্তীতে নানা চরাই উতরাই পেরিয়ে সেই জমিতে আবার রেজিস্ট্রেশন, নাম জারি ও নকশা পাশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। কিন্তু জোয়ারদার তাবেদুন নবীর অভিনব প্রতারনায় নিঃস্ব হয়েছে ফ্ল্যাট ক্রেতা কয়েকশ পরিবার। নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় খুইয়ে তাদের পথে বসার দশা। কথিত আছে স্বপ্ন নগর ২ প্রকল্পে উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর দেয়া নিয়ে অবৈধ দখলদার দের সাথে সেহুন বাগিচায় ততকালীন চেয়ারম্যানের সভা কক্ষে একটি মিটিং হয়। সেই মিটিং এ আইন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, ঢাকা সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সদস্য প্ল্যানিং বিজয় কুমার মন্ডল, শেখ সোহেল রানা সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সেই মিটিং এর সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই জোয়ারদার তাবেদুন নবী NOC দিয়েছিলেন মর্মে জানা যায়। তাবেদুন্নবী ছয় কোটি পেলে বাকিরাও যে কিছু পাননি এমন নয়। কিন্তু মাঝখানে পরিস্থিতি ভিন্ন হলে সবাই সাধু বনে যান।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর