হাতিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তে পুলিশ, অভিযুক্তের অস্বীকার

সময়: 10:29 am - February 15, 2026 |

মানব কথা: নোয়াখালীর হাতিয়ায় ‘ভোটের বিরোধের জেরে’ এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেছেন, ‘ওই ঘটনায় কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ তারা পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ আসায় তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছেন।’

অভিযোগকারী নারীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ, ‘শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায়’ ধর্ষণ করা হয়েছে তাকে।

তিনি বলছেন, ভোটের পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তাদের ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়। একজন তাকে ‘ধর্ষণ’ করে এবং বাকি দুজন পাহারা দেয়।

অন্যদিকে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই বিএনপিকর্মীর দাবি, হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নে যে সময় ধর্ষণের কথা বলা হচ্ছে, তখন তিনি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, কারণ ‘শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে রাজি না হওয়ায়’ তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে দুই দফা মারামারির তথ্য পাওয়া গেলেও ধর্ষণের বিষয়ে স্থানীয়দের কেউ কিছু বলতে পারেননি। হাসপাতালে ওই নারীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রেও দুই রকম তথ্য রয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মারামারির ঘটনায় চিকিৎসা নিতে এক নারীসহ কয়েকজন শনিবার দুপুরে হাসপাতালে আসেন। তিন ঘণ্টা পর বিকাল ৫টায় ওই নারী পুনরায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা বলেন।

তবে এখন পর্যন্ত মামলা না হওয়ায় ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষা করাতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মারামারি ও ধর্ষণ, দুটিই ‘পুলিশ কেইস’ হওয়ায় ওই নারীকে হাসপাতালের লেবার কমপ্লেক্সে রাখার কথা বলেন ডা. ফরিদ।

শনিবার সন্ধ্যায় ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে যান নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এনসিপি থেকে নির্বাচিত আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকার।

হান্নান মাসউদের দাবি, ‘শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায়’ ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে ওই নারীকে। হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসনের দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি।

জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, ‘পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীকে দেখে এসেছেন।’

তিনি বলছেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় লোকজন ওই স্থানে দুই দফায় মারামারির ঘটনার তথ্য দিলেও ধর্ষণের কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ প্রচার হওয়ার পর ফেইসবুকে লাইভে আসেন সেই বিএনপিকর্মী রহমান হোসেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের পক্ষে কাজ করেছেন তিনি। তাকে এনসিপির পক্ষে কাজ করার জন্য ‘চাপ’ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘‘এসব অভিযোগ বানোয়াট ও মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমাকে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”

রহমান দাবি করেছেন, যে সময় ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সে সময় তিনি নিজেই নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে দেখা যায়, ওই নারীকে ‘ধর্ষণের’ সময় লেখা হয়েছে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায়। আর ওইদিন ‘ফিজিক্যাল অ্যাসল্টের’ ঘটনায় চিকিৎসা দেওয়ার একটি ব্যবস্থাপত্র রহমান হোসেন দেখিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. উদ্দিন বলেন, ‘রহমান হোসেন ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার জরুরি বিভাগে গিয়ে বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে মারধর করা হয়েছে। পরে তাকে জরুরি বিভাগেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।’

যেখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেই চানন্দি ইউনিয়ন থেকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল দেড় ঘণ্টার পথ।

জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন বলছেন, ‘মিথ্যা ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে প্রতিপক্ষরা বিএনপির সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

সূত্র: বিডি নিউজ

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর