প্রবাসী ও নারীদের প্রাধান্য দিয়ে ঢাকা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুলের ১৪ প্রতিশ্রতি
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকা-১ আসনে (দোহার-নবাবগঞ্জ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম ১৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। রোববার সন্ধ্যায় জয়পাড়া জামায়াতের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যারিস্টার নজরুল এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। “ইনসাফভিত্তিক সমাজ, সুশাসন, সমৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ” শীর্ষক এই ইশতেহারে প্রবাসী কল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দোহার -নবাবগঞ্জকে মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
নিজের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফার বর্ণনা তুলে ধরেন ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। তার প্রতিশ্রতিগুলি হল – দোহার-নবাবগঞ্জের প্রবাসীরা যেন হয়রানি ও প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য প্রবাসী সহায়তা সেল গঠন করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে এবং বিদেশগমনের আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য দোহার–-নবাবগঞ্জে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে স্বনির্ভরতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হবে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি অনুদান ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জের সরকারি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। মা ও শিশু চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন, ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক এবং ২৪ ঘণ্টার টেলিমেডিসিন সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষা খাতে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জে একটি পলিটেকনিক ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। অনার্স কলেজগুলোতে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হবে এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ দেওয়া হবে।
অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি মেট্রোরেল মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। আমি বিজয়ী হলে মুন্সিগঞ্জ মেট্রোরেলের সঙ্গে দোহার-নবাবগঞ্জকে সংযুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নিব। দুই উপজেলায় আধুনিক বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।
কৃষি ও তাঁত শিল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য সরকারি সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তাঁত বোর্ড ও ওয়েভার এসোসিয়েশনের বেদখল সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে এবং দোহার–নবাবগঞ্জের লুঙ্গি ও জল-সিরা মিষ্টিকে এও পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক উন্মুক্ত তথ্য সেন্টার গড়ে তোলা হবে। জনগণের সরাসরি যোগাযোগের জন্য “হ্যালো এমপি” নামে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হবে এবং ভিজিডি-ভিজিএফসহ সব ভাতা স্বচ্ছভাবে বণ্টন করা হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুব সমাজকে দক্ষ করে তুলতে সরকারি কারিগরি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ঝগঊ ঋণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি করে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বেকারমুক্ত উপজেলা গড়াই আমার লক্ষ্য।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, সমতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না।
নদীভাঙন ও পর্যটন উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। আড়িয়াল বিলে ইকো-পার্ক, স্লুইস গেট ও ফেরি সার্ভিস চালু করে এই অঞ্চলকে পর্যটনসমৃদ্ধ করা হবে।
সংস্কৃতি ও ক্রীড়া নিয়ে তিনি বলেন, বার্ষিক উপজেলা প্রিমিয়ার লীগ আয়োজন করা হবে। মাঠগুলোকে মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তর এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
শ্রমিক কল্যাণ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হলে দোহার–নবাবগঞ্জ হবে একটি মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ জনপদ। জনগণের ভোট ও সমর্থনই এই পরিবর্তনের শক্তি।














