নবম পে-স্কেলের চাপে পরিচালন ব্যয় বাড়ছে ৮ হাজার কোটি, ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট
মানব কথা: কৃচ্ছ্রসাধনের ঘোষণা থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বরং নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতির কারণে শেষ মুহূর্তে পরিচালন ব্যয়ে আরও ৮ হাজার কোটি টাকা যোগ করা হয়েছে। এতে পরিচালন ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) দ্বিগুণেরও বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই সংযোজনের ফলে আসন্ন অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার বেড়ে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাবে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের পর অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর করতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সেই বিবেচনায় পরিচালন ব্যয়ে অতিরিক্ত ৮ হাজার কোটি টাকা যুক্ত করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে উৎপাদন না বাড়িয়ে ভোগ ব্যয় বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পর বেতন কাঠামোয় সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। তবে শুধু বেতন বাড়ালেই হবে না, সরকারি সেবার মান ও প্রশাসনিক দক্ষতাও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ উন্নয়ন ব্যয়কে সংকুচিত করছে। ফলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও সরকারি বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার এখন সবচেয়ে জরুরি। অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয়, বিদেশ সফর, বিলাসবহুল গাড়ি কেনাসহ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে বাজেট বাস্তবায়ন যেমন কঠিন হবে, তেমনি অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।










