সালমান শাহ হত্যা মামলা: সামীরাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৯ সেপ্টেম্বর

সময়: 9:16 am - August 30, 2026 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার (৩০ আগস্ট) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা এদিন আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ হিসেবে ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম। সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। পরে ২৪ মে আদালত মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। তবে আদালতের ওই আদেশ বাতিলের জন্য বাদীপক্ষের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। আদালত পরবর্তীতে আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। এরপর গত ২২ জুন মরদেহের দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম তদারকির জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে সেটিও নথিভুক্ত করা হয়।

যেভাবে হত্যা মামলা:

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যুর ঘটনায় ওই সময় অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। আদালত অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব নেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।

হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ:

সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলার ১১ আসামি:

মামলায় সামীরা হক ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন। পরে প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। দ্রুত বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যরা সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, সালমানের মা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা যায়। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগে উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করেছিলেন এবং এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এখন আদালতে নির্ধারিত আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর