অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সময়: 10:51 am - September 20, 2026 |

কোর্ট রিপোর্টার::

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের বিচার সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। এরপর বিচার করবে আদালত। সরকার এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারটা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা সহযোগিতা করব আমাদের আইনানুগ যেসব প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে।’

১২ ঘণ্টার মধ্যে চার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার:

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশের তৎপরতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার এ ঘটনায় সারাদেশের মানুষ মর্মাহত। ঘটনার পর দ্রুততার সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনায় সারাদেশের মানুষ মর্মাহত। এ ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।’ তবে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমে হবে।

কিশোর অপরাধ চক্রের মতো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী:

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারদের বয়স ও তাদের সঙ্গে নিহত কিশোরের সম্পর্কের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বয়স সম্ভবত ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তাদের বয়স নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় যেসব কিশোর জড়িত, তাদের দুইজনের বয়স সম্ভবত ১৮ বছরের বেশি, একজনের কম হতে পারে, এনআইডি চেক করা হচ্ছে।’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের আগে থেকেই পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। তাদের মধ্যে ওঠাবসা ছিল এবং তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিত। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত।’ খোঁজখবর ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অপ্রতিমের চেয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বলেও জানান তিনি।

অপ্রতিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার:

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে মোবাইল ফোনটি নিয়ে অপ্রতিম বাসা থেকে বের হয়েছিল, সেটি প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে মোবাইল নিয়ে ঘটনা, সেই মোবাইলটা উদ্ধার করা হয়েছে প্রধানতম সন্দেহভাজন আসামির কাছ থেকে। ওর নাম তুহিন।’ তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ আইনানুগ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সমস্ত আলামত পাওয়া গেছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছে।’

দ্রুত তদন্তের জন্য পুলিশের প্রশংসা:

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখানে পুলিশের আমরা প্রশংসা করতে পারি যে তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয়গুলো জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। এখন মামলার তদন্তের পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলছে।

বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বেরিয়ে আর ফেরেনি অপ্রতিম:

অপ্রতিমের পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি সে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও অপ্রতিম বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। এরপর তার সন্ধানে তৎপরতা শুরু হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর অপ্রতিমের সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

দ্রুত বিচার চান স্বজন ও স্থানীয়রা:

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল এবং বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। তদন্ত শেষে পুলিশ যে তথ্য ও আলামত আদালতে উপস্থাপন করবে, তার ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার আইনানুগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলে সহযোগিতা করবে। আর মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর