বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক কেন্দ্র করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নেছার আহমদ:
দেশে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়াতে পৃথক ও আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ চিকিৎসক তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম) সচেতনতা বিষয়ক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য পৃথক ও আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চিকিৎসাসেবাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ খাতে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তারা আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোগীদের সেবা দিতে পারেন।
সন্তান না হওয়ায় সামাজিক হেনস্তা নয়:
সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো দম্পতি যাতে সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার না হন, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্ধ্যাত্বের কারণে কোনো দম্পতিকে সামাজিকভাবে অপমান বা হেনস্তার শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পাশাপাশি এ বিষয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও গুরুত্ব দেন তিনি।
চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান:
দেশের চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখার জন্যও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের ওপর আস্থা রেখে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা অনেক কম। ফলে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদার তুলনায় বিদ্যমান অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয়।
বাড়াতে হবে হাসপাতালের শয্যা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিধি:
জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু শয্যা সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার পরিধিও বাড়াতে হবে। দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সেমিনারে পিসিওএসসহ নারীদের প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।








