ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও ৫৫ খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ : মীর শাহে আলম

সময়: 7:13 am - September 28, 2026 |

মিজানুর রহমান:

রাজধানীর খালগুলো পুনরুদ্ধার, দখলমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৯টি—মোট ৫৫টি খালের দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে খাল দখল রোধের পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচল ও উন্মুক্ত বিনোদনের সুযোগ বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।  রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নন্দীপাড়া এলাকায় ডিএসসিসির ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন জিরানী খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নগরীর খালগুলো পুনরুদ্ধার, দখলমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধনে সরকার কাজ করছে। খাল রক্ষার পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর পয়ঃবর্জ্য শোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, রাজধানীর খালগুলোকে পরিকল্পিতভাবে পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন করা হলে একদিকে যেমন অবৈধ দখল ঠেকানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ চলাচল ও উন্মুক্ত বিনোদনের পরিবেশ তৈরি হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ধাপে ধাপে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার লক্ষ্য:

রাজধানীকে উন্নত ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, একদিনেই দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। বাস্তবতাকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চায় সরকার।  তিনি বলেন, নদী-খাল রক্ষা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। এ কাজে ঢাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

জিরানী খাল পুনরুদ্ধারে ৮৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প:

পরিদর্শন করা জিরানী খালটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৪ থেকে ২৫ মিটার। এটি ‘ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭০ শতাংশ এবং ডিএসসিসির অর্থায়ন ৩০ শতাংশ। অক্টোবর ২০২২ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডিএসসিসি।  ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। খালভিত্তিক হিসাবে মান্ডা খালের কাজের অগ্রগতি ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের ২ দশমিক ০৫ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ এবং স্লোপ প্রটেকশনের কাজও করা হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্ব:

পরিদর্শনের সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে হবে। তিনি নাগরিক দুর্ভোগ ও এলাকার সমস্যাগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর জোর:

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, সরকারের নেওয়া উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর