জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

সময়: 7:39 am - September 28, 2026 |

তাহের মাহমুদ:

আগেভাগে সচেতনতা তৈরি ও যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, রোগ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে রোগ প্রতিরোধই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘Stronger Together: একসাথে, আরও শক্তিশালী—জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলক বেশি হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতনতা কম। ফলে এসব এলাকায় জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনাও বেশি দেখা যায়। এ কারণে শুধু শহর নয়, গ্রাম ও প্রান্তিক পর্যায়েও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এ লক্ষ্যে আগের মতো সারা দেশে সমন্বিত কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কুকুরসহ সংশ্লিষ্ট প্রাণীর টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে পড়লে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের কল্যাণ ও জনস্বার্থেই সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা প্রাণীটি রোগমুক্ত ও নিরাপদ কি না, সে বিষয়েও সচেতন হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যকে আলাদা করে না দেখে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রান্তিক অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃষক ও খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি সেমিনার, প্রচার-প্রচারণা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কার্যক্রমগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আলোচনা সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে দেশে জলাতঙ্কের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রতিরোধ কার্যক্রম, কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. আ. মান্নান মিয়া এবং পথ কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ বিস্তার রোধ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মেহেদি হাসান ভূঁইয়া।

এর আগে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীতে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, ভেটেরিনারিয়ান, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। বক্তব্য দেন পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর