‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

সময়: 6:25 am - October 18, 2026 |

মানব কথা ডেস্ক:

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের কথা বলছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এ নীতির আওতায় কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা ভূরাজনৈতিক বলয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তির বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, অন্য কোনো দেশ বা সরকারের স্বার্থের আগে বাংলাদেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়াই এ নীতির মূল কথা। তাঁর মতে, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে চায় বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘অন্য কোনো দেশের জনগণ বা সরকারের স্বার্থ বিবেচনার আগে আমরা আমাদের নিজেদের জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছি—এটাই মূল পার্থক্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের জনগণকে এবং জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে রাখছি।’ শামার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের স্বার্থ ছিল কেন্দ্রীয় বিবেচ্য বিষয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ভূরাজনৈতিক বলয়ের দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় সরকার। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির অর্থ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা নয়। বরং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ করাই এ নীতির লক্ষ্য।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। শামা ওবায়েদ বলেন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের দেশগুলো, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্যদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যদের সঙ্গে ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘আমরা সব অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ নীতিকে বাস্তববাদী ও বাস্তবভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন, উৎপাদনকেন্দ্র প্রয়োজন, প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ প্রয়োজন।’ সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিশ্ব রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মধ্যে বাংলাদেশ কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, কোনো উদ্যোগ বা অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জন্য কী সুফল বয়ে আনবে, তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনলে আমরা যেকোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে যোগ দেব। বিষয়টি খুবই সহজ।’ ইন্দো-প্যাসিফিক উদ্যোগ এবং ব্রিকস, সার্ক ও বিমসটেকের মতো বহুপক্ষীয় জোট ও আঞ্চলিক কাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। শামার ভাষায়, ‘আমি এখানে কোনো বিরোধ দেখি না।’ সরকারের এ অবস্থানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা আদায় করা এবং একই সঙ্গে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখা।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাহরাইনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বাসসকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, এ ধরনের নীতি কখনো কখনো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এ নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে আগের সরকার অধীনতামূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছে। বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত না করেই ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। এর বিপরীতে বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি সার্বভৌমত্ব, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্টের অর্থ হলো, অন্য সবকিছুর আগে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে স্থান দিতে হবে।’ তাঁর মতে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। তবে কোনো দেশের অধীনস্থ অবস্থান গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের নীতি হওয়া উচিত—বন্ধু চাই, প্রভু নয়।’ সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, কোনো দেশ যত বড় বা শক্তিশালীই হোক না কেন, বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু প্রভু হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফরকালে কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে দিকেই এগোচ্ছে। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’ ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সামরিক জোটে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক জোটে যোগ দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। তবে অর্থনৈতিক চুক্তি ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই অংশ নিতে পারি।’ তাঁর মতে, বাংলাদেশের কূটনীতিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শাকসবজি ও মাছের বিদেশে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। ফলে প্রচলিত রপ্তানি খাতের বাইরেও নতুন বাজার সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্প্রসারণ করতে হবে।’

স্বাধীন ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির। তিনি বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি। হমায়ুন কবিরের মতে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কার্যকারিতা নির্ভর করবে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংহতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দর-কষাকষির ক্ষমতার ওপর। তিনি বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কার্যকর করতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি সুসংহত করা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাইরের বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের খুবই সীমিত। তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’ সাবেক এই কূটনীতিক স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের জন্য তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—জাতীয় শক্তির সংহতি, বাংলাদেশের প্রয়োজনের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থ সামলানোর কূটনৈতিক দক্ষতা। তাঁর মতে, কোন দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ কী প্রত্যাশা করে এবং কোন সহযোগিতা দেশের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়—তা আবেগের পরিবর্তে বাস্তব পরিস্থিতি ও জাতীয় প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মূল্যায়নে আবেগ বা আবেগপ্রবণতার কোনো স্থান নেই। আমাদের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালিত হতে হবে নিজেদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে।’

বাংলাদেশের আঞ্চলিক কূটনীতিতে সার্ক পুনরুজ্জীবনকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, সংস্থাটিকে কার্যকর করার উপায়, প্রয়োজনীয় নীতি এবং সম্ভাব্য রোডম্যাপ নিয়ে সার্কের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘সার্ককে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, কী ধরনের নীতি নেওয়া যেতে পারে এবং কী রোডম্যাপ গ্রহণ করা যায়—তা নিয়ে আমরা সার্কের সব দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি।’ শামা জানান, সার্ক পুনরুজ্জীবনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সার্ক এবং বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)—উভয় সংস্থাকেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে দেখতে চায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, ‘দুটি সংস্থাই পাশাপাশি কাজ করতে পারে।’

সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এ নীতির বাস্তব কার্যকারিতা নির্ভর করবে ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলো বাস্তব সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উদ্যোগে কতটা প্রতিফলিত হয়, তার ওপর। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমমর্যাদা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, রপ্তানি বৈচিত্র্য, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি। কারণ, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ভিত্তি ছাড়া বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থে কার্যকর দর-কষাকষি করা কঠিন। সার্বিকভাবে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা, আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বজায় রাখা।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর