তীব্র অর্থনৈতিক সংকটেও তুঘলকি প্রকল্প কার স্বার্থে?

সময়: 11:32 am - October 24, 2026 |

একদিকে দেশ চলাতে আই এম এফের কাছে ঋণের জন্য ধর্ণা, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের ছড়াছড়ি।

মানব কথা ডেস্ক:

গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল(আইএমএফ)। সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ এর পূর্বাভাস বলছে, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী কয়েক বছরেও অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর জোরালো আভাস নেই। বরং আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ। প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ বাড়াবে; আর উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। এরই মধ্যে গত ৪ বছরে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে আছে দেশের প্রায় সোয়া ছয় কোটি মানুষ। কিন্তু অর্থনীতির এই প্রবল মন্দা অবস্থায়ও থেমে নেই অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহনের হিড়িক, বন্ধ হয়নি হাসিনা আমলের শ্বেত হস্তী প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন। তেমনই এক প্রকল্প রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এর বহুতল ভবন নির্মান প্রকল্প।

বহুমাত্রিক সমস্যায় জর্জরিত ইনু-হাসিনার স্বপ্নের প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির পায়তারা:

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন বা বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণের এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে। অনুমোদনের সময় বলা হয়েছিল, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ। তবে কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজটি শুরুই হয় ২০২২ সালে। ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের প্রসার ঘটেছে। এর পেছনে আমার মায়ের অবদান আছে। সিনেমা দেখে একদিন মা ও আব্বা ফিরছিলেন। মা বলছিলেন, “আমরা বাঙালিরা বাংলাদেশে সিনেমা তৈরি করতে পারি না?” এরপরেই মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে এফডিসি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন বঙ্গবন্ধু।’

নির্মাণনাধীন বিএফডিসি কমপ্লেক্স:

প্রকল্প গ্রহণের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। কয়েক দফা সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ কোটি ৫১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের জুনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন দেয় তাতে প্রকল্পের অগ্রগতি মোটেই সন্তোষজনক নয় মর্মে মতামত প্রদান করা হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ৯৪ কাঠা জমির ওপর, তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিএফডিসি। কিন্তু বিধি অনুযায়ী তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে এবং শেরে বাংলা নগরে কোন সরকারি সংস্থার বরাদ্দ প্রাপ্ত জমিতে উন্নয়ন কাজ করলে তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে হবে।কয়েক দফা ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২৬ সালে জুন মাসে প্রকল্প শেষের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। কাগজে কলমে অগ্রগতি ৫০% এর কিছু বেশি হলেও আগামী কয়েকবছরে তা শেষ হবার কোন সম্ভাবনা নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের মালিক মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে পালিয়ে গেছেন। এক সময় যাত্রা পালার খুব প্রচলন ছিল, বিভিন্ন যাত্রাদল এটাকেই পেশা হিসাবে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো, কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেছে। একসময় ভিসিপি/ ভিসিআর সিডি প্ল্যায়ার ইত্যাদি জনপ্রিয় ছিল আবার প্রযুক্তির পরিবর্তনে হারিয়েও গেছে। এই ন্যাট-ফ্লিক্স, ওটিটির যুগে বলিউডের মতো বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও মেইনস্ট্রীম চলচিত্র, সিনেমা হলে ক্রমাগত লোকসান গুনছে এবং সেখানে কোন সরকারি বিনিয়োগে ভবন বা স্টুডিয়ো নির্মান হয়না। সেখানকার যশরাজ ফিল্মস, ধর্মা প্রোডাকশনের মতো বড় বড় কর্পোরেটফার্ম নিজস্ব স্টুডিও এবং ফিল্ম সিটি নির্মান করে থাকে। অথচ বাংলাদেশের ক্রম সংকোচনশীল চলচিত্র বাজারে এই চারশত কোটি টাকার শ্বেতহস্তী পোষা হচ্ছে কার স্বার্থে? গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করলে কমপক্ষে একশত কোটি টাকা সাশ্রয় হতো মর্মে বিশেষজ্ঞরা ধারনা করেন। সম্প্রতি সাবেক ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ(চাকুরি চ্যুত) গ্রেফতার হলে বেড়িয়ে আসে দেশকে অস্থিতিশীল করতে শিল্পীদের ব্যবহার করেতে ষড়যন্ত্র করছিলেন এই কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তার সাথে সাবেক সেনা প্রধান আজিজ এর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ঠিকাদার বিশ্বাস ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের মালিক দুলালও আজিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বিডিয়ার হত্যাকান্ডের পরবর্তী ঘটনাবলীর প্রত্যক্ষ বেনিফিসিয়ারি। এদের মাধ্যমে এই টাকা পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় এর হাত হয়ে, দেশ বিরোধী কর্মকান্ডে শিল্পীদের অর্থায়নে ব্যয় হবে। এফডিসি ইতোমধ্যে প্রমান করেছে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা তাদের নেই। তাছাড়া মূল কাজ চলচিত্রশিল্প উন্নয়নে ব্যর্থ হয়ে পাঁচ তারকা হোটেল আর ফুডকোর্টের ফ্লোর স্পেস বিক্রিকরে লাভবান দেখাতে দেশের সাধারন জনগনের করের টাকা এই মন্দা সময়ে কেন দেয়া হবে? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাজ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের মতো কমার্শিয়াল স্প্যাস বিক্রি নয়। অবিলম্বে এই প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধের দাবী জানাচ্ছি, সেই সঙ্গে তা যে অবস্থায় আছে সেভাবেই উম্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে বেসরকারি উদ্যোক্তার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করলে উলটো রাষ্ট্রীয় কোশাগারে কয়েকশত টাকা আসবে।

রাজধানীর আগারগাও এ সরকারি সমন্বিত অফিস ভবন নির্মানঃ “রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে তিনটি বেইজমেন্ট সহ বারতলা অফিস ভবন নির্মান” আরেকটি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প। প্রকল্পটি বহু আগে থেকেই নানাবিধ দূর্নীতির অভিযোগে বিতির্কিত। এই প্রকল্পটিতে কোন সংস্থা অফিস করবে তা এখনো ঠিক হয়নি। চাহিদা নিরুপন না করে স্রেফ কাজ বানানোর জন্য প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয় ২০২৩ সালে। সে মোতাবেক ২০২৪ এর জানুয়ারিতে এর দরপত্র আহবান করা হয়, দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য থেকে ঠিক ১০% নিম্ন হার মিলিয়ে কাজটি পান কুশলী নির্মাতা লিমিটেড। ২০২৪ এর বর্ষা বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রীসভা এরকম ‘ম্যাজিক-রেট’ মিলে যাওয়ায় দরপত্রটি বাতিল করে দেন। ঠিকাদারকে রেট ফাস করে দেয়ার অভিযোগ তখন নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের দিকে গেলে, সে যাত্রায় রিজার্ভে বদলী হয়ে তিনি নিস্তার পান। এরপর আরও নেক্কার জনকভাবে প্রত্যাশী সংস্থার চাহিদা ছাড়া ভূয়া দর বিশ্লেষণী আইটেম (এনালাইসিস) সহ প্রাক্কলন বানিয়ে পুনরায় দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্র আইডি ১১২০৮৫৩ এবং উম্মুক্ত করনের তারিখ ২৫/৯/২০২৫ খ্রিঃ। কাজটি সিণ্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড-সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিঃ জেভি কে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে, গত ২১/১০/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আমরা গোপন অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি এই দরপত্র ছাড়াও রমনা থানা এবং সার্কিট হাউজ নির্মান প্রকল্প এনফোর্সমেন্ট টীম প্রাথমিক তদন্তে দূর্নীতির সত্যতা পেয়েছে। সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিঃ নামক ফার্মটি মূলত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে হাসিনা সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকীর প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স কে জেভি করে সামনে রেখে অতি অল্প সময়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে ৩৯ টি মেগা প্রকল্পের কাজ পায়। এহেন দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড-সাগর ইনফো বিল্ডার্স লিঃ জেভি কে কাজ দেয়ার জন্যই সুপারিশ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। পরে সিসিজিপি তে দরপত্রটি বাতিল করা হয়। পরে নতুন করে। এই কুকীর্তিতে জড়িতদের দায় নির্ধারন না করেই তাদের দিয়েই আবার দরপত্র আহবান করা হয় (আইডি নম্বর ১২০৭৪৯৯। তৃতীয় দফায় কাজটি পান কুশলী নির্মাতা লিঃ। তাদের উদ্ধৃত দর অফিসিয়াল প্রাক্কলিত মূল্য (১২০,৭১,৮০,৯২২/-টাকা) হতে ৯.৯৫% কম। আমাদের প্রশ্ন কোন চাহিদা না থাকা, রিটার্ন হিসাব না করে এসব উচ্চাভিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থায়ন বাজেটে চাপ তৈরী করবে। অবিলম্বে এর অর্থায়ন বন্ধ অথবা বাতিলের দাবী এখন সবচেয়ে উপযোগী।

রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব এর জন্য ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মানঃ ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এই প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। তখন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৪৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। পরে প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত হিসাবে পরে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এনফোর্সড ডিজ এপিয়ারেন্স এবং বিচার বহির্ভূত হত্যা কান্ডের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারনে র‍্যাবের ৬ জন সাবেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার উপর ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন যুক্ত্রাষ্ট্র । ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি সংস্কারের অংশ হিসেবে র‍্যাব বিলুপ্ত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সুপারিশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি বা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (Special Response Battalion, SRB) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করে। বিরোধী মত নির্মূলের গোপন বন্দী শালা তথা আয়না ঘরের ক্ষত না শুকাতেই পুরানো র‍্যাবের এই তুঘলকী প্রকল্প চলছে কিসের স্বার্থে। একটি বিশেষ কোম্পানিকে সুবিধা দিতে অনেক গুলো অঙ্গকে অযৌক্তিক ভাবে একীভূত করে ২০২ কোটি টাকার প্যাকেজ করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে এম জামাল এন্ড কোম্পানি লিমিটেড কাজটি পেয়েছে। প্রসঙ্গত এই প্রতিষ্ঠানটি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে কয়েক হাজার কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো: ঢাকার সোবহানবাগ মসজিদ নির্মান, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও নোয়াখালী সদর হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় আবাসন ও পুলিশ অফিসার্স মেস, মিরপুর পুলিশ কমপ্লেক্স এবং উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ওপিডি কমপ্লেক্স (বিএসএমএমইউ) ঢাকার শাহবাগে সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রজেক্টে (২য় পর্যায়), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, ঢাকা (উপ-শিরোনাম: হাসপাতাল ভবন নির্মাণ), কিশোরগঞ্জে সৈয়্যদ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এই প্রতিষ্ঠানের কর্নধার মো. জামাল উদ্দিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সদস্য ছিলেন। দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশীও ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হওয়ায় ২০২৪ সালে তার চার দিনের চীন সফরে ১৯৬ জন সফরসঙ্গীর মধ্যে জামাল উদ্দিনের নাম ১৪১ নং ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই অর্থনীতির বেহাল দশায়ও ফ্যাসিস্ট এর পেটে ১৭২ কোটি যাবে কি আবারও আয়না ঘর নির্মানের জন্য?

রাজধানীর আজিমপুরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মান (জোন-সি)ঃ এই প্রকল্পে প্যাকেজ-৭ এ ৮০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ২০ তলা ভবনের ব্যয় ৮৪ কোটি, প্যাকেজ-৮ এ ৮০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ২০ তলা দুইটি (৪৬ও ৪৭) ভবনের ব্যয় ৮৪ কোটি, প্যাকেজ-৯ এ ৮০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ২০ তলা ভবনের(৪৫ নং) ব্যয় ৪২ কোটি, প্যাকেজ-৪ এ ১০০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ২০ তলা ভবনের ব্যয় ১০৮ কোটি, প্যাকেজ-৫ এ ১০০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ২০ তলা ভবনের ব্যয় ১০৮ কোটি, প্যাকেজ-৬ এ ১০০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ২০ তলা ভবনের ব্যয় ১০৮ কোটি টাকা। আজিমপুর কলোনিটি ইতোমধ্যেই কনক্রিটের জঞ্জালে পরিনত হয়েছে। এই আবাসিক ভবন গুলোতে যে ভাড়া পাওয়া যাবে একশত বছরেও তার রিটার্ন আসবেনা, যদিও বিল্ডিং এর লাইফ টাইম ৫০ বছর। উপরন্তু এই ভবনগূলো মেরামর রক্ষনাবেক্ষনে রাষ্ট্রের ব্যয় অনেক। আজিমপুর কলোনিতে বিদ্যমান ভবনগুলো নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষনে ১৪ কোটি টাকা এবং লিফট ও জেনারেট, কমন ইউটিলিটি বিল বাবদ আরও ১০ কোটি টাকা প্রতিবছর ব্যয় হয়। ঘাটতি বাজেটের এই সময়ে আবাসিক ভবন নির্মান প্রকল্প গ্রহণকে গরীবের ঘোড়া রোগ বললেও কম বলা হবে। অচিরেই অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে জনগনের উপর করের চাপ কমানোর কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চাই। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প কারখানা, প্রবাসী কল্যান-কারিগরি শিক্ষা ইত্যাদি খাতে যেখানে জনগন সরাসরি উপকৃত হবে এবং দ্রুত তম সময়ে রিটার্ণ আসবে এমন প্রকল্প গ্রহন করা সময়ের দাবী।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর