‘শেখ হাসিনা কি বেড়াতে আসবে যে পাসপোর্ট দেব, আমরা হস্তান্তর চাই’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সময়: 10:58 am - November 5, 2026 |

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডরকে উন্নয়নের করিডর হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মানব কথা ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শেখ হাসিনা হচ্ছে পলাতক সন্ত্রাসী। এখানে কি শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াতে আসবে যে তাকে পাসপোর্ট দেব? পাসপোর্ট দিয়ে আসেন।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের জন্য পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না; এ ক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন, তাকে কি সাধারণ ও বাণিজ্যিক ভ্রমণকারী হিসেবে দেখব যে পাসপোর্ট দেব? আসেন, রংপুরে শ্বশুরবাড়ি বেড়াইয়া যান। তো এখানে হ্যান্ডওভার চাই আমরা।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হস্তান্তরের জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ সেই প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর চায়।

চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডর নিয়ে যা বললেন:

চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডর চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের করিডর চালু হলে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। এর ফলে পণ্য ও মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে অর্থনৈতিক যোগাযোগ ও মানুষের চলাচল বাড়বে। পণ্য পরিবহনও সহজ হবে। তবে এটি করার আগে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আমরা আলোচনা করব এবং আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’করিডরটি কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এটি উন্নয়নের করিডর হবে। এখানে সংখ্যা থাকবে কেন? সবাই এর সুফলভোগী হবে।’

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর