জামায়াতের দলীয় কাঠামোয় আসছে পরিবর্তন, গঠিত হচ্ছে উপদেষ্টা পরিষদ
মানব কথা ডেস্ক:
প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কাঠামোয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করতে গঠন করা হচ্ছে উপদেষ্টা পরিষদ। এ পরিষদে আমলা, কূটনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তাঁদের দলের শপথধারী (রুকন) সদস্য হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ আলোচনার পর জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্বাহী পরিষদ উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় আলোচনা শেষে দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নেতারা মনে করছেন, গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে নির্বাহী পরিষদ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াতের একাধিক সূত্র জানায়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে দলের অবস্থান নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আসছিল দলটি। নির্বাচনের পর বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভাব এবং বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দলের সঙ্গে যুক্ত করার আলোচনা আরও জোরালো হয়। দেশে-বিদেশে থাকা দলের শুভাকাঙ্ক্ষীরাও এ বিষয়ে পরামর্শ দেন। পরে ২১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাড়বে অংশগ্রহণ:
উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জনসমর্থন বাড়ছে। বিগত নির্বাচনে এর প্রতিফলন দেখা গেছে। বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়। সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন। এ কারণেই দলে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দল পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়েও তিনি তথ্য তুলে ধরেন। আব্দুল হালিম জানান, মহিলা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া দলের রুকনদের মধ্যে নারী সদস্যের হার প্রায় ৪৩ শতাংশ। তিনি আরও বলেন, দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মহিলা জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ যুক্ত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি মতের প্রতিফলন ঘটবে।
উদ্যোগকে ইতিবাচক দেখছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী:
জামায়াতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলার চৌধুরী। তিনি বলেন, দলের কাঠামোগত অনড় অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হলে তা দলটির রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রস্তাবিত উপদেষ্টা পরিষদ বাস্তবে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটি দেখার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।









