শান্তিরক্ষীদের অর্জিত গৌরব অক্ষুণ্ন রাখতে হবে, সশস্ত্র বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সময়: 10:35 am - June 10, 2026 |

মানব কথা:বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যে সুনাম ও গৌরব অর্জন করেছেন, তা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শত প্রতিকূলতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শান্তিরক্ষীরা দেশের জন্য যে সম্মান বয়ে এনেছেন, সেই অর্জন রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশে প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ৯টি মিশনে ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের নারী সদস্যদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের প্রায় ১১ শতাংশ সদস্য নারী, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদান অনন্য এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজরই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই ইতিহাস বাহিনীর জন্য গর্ব ও অনুপ্রেরণার উৎস।

তিনি বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার বিকল্প নেই। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের ধরন বদলে গেছে। প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, তথ্যযুদ্ধ এবং জলবায়ুজনিত নিরাপত্তা সংকট নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব মোকাবিলায় সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী। সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হওয়া সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি ২০২৫ সালে সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে শাহাদাতবরণকারী ছয় সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক বিভিন্ন মিশনে আহত সদস্যদেরও সম্মাননা প্রদান করেন।পরে বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর