সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের পার্থক্য ব্যাখ্যা করলেন তাজুল ইসলাম

সময়: 9:06 am - July 18, 2026 |

মানব কথা: সংবিধান সংস্কার এবং সংবিধান সংশোধন এক বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংবিধানের এমন কিছু মৌলিক কাঠামো রয়েছে, যা সংসদ চাইলে সংশোধন করতে পারে না। তবে প্রয়োজন হলে সেই কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি এসব কথা বলেন। তাজুল ইসলাম বলেন, সংসদীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করলে তা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তিনি উদাহরণ হিসেবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট রায়ে উল্লেখ করেছিল যে, ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার ভাষ্য, শুধুমাত্র সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। এতে কেবল কিছু সীমিত বা বাহ্যিক পরিবর্তন আসতে পারে, যা দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে সক্ষম হবে না। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যাতে সদস্যরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং গণপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, যা প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে সংঘটিত হয়েছে। তাই সংবিধান সংস্কারের জন্য পৃথক আদেশ প্রয়োজন ছিল। তিনি দাবি করেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে এবং এর মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে সংশোধন প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ‘সংস্কার পরিষদ’ নামটির প্রতিও তাদের আপত্তি রয়েছে। তার মতে, জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন কেবল নির্বাচন আয়োজনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যেই সংঘটিত হয়েছিল।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর