বাদ পড়া ৪,১৫৯ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ জিয়া পরিবারের নামে থাকা বিদ্যালয়গুলোই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত, ক্ষোভ শিক্ষকদের

সময়: 9:47 am - August 1, 2026 |

স্টাফ রিপোর্টার :শহিদুল ইসলাম :

দেশের ৪ হাজার ১৫৯টি বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক নেতারা। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এসব বিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ হাজার ৬৩৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কোনো ধরনের সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করে আসছেন। এতে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। শিক্ষকদের অভিযোগ, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে নানা জটিলতায় বিদ্যালয়গুলো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা না থাকায় অনেক বিদ্যালয় এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা বলছেন, বছরের পর বছর বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন, আবার কেউ কেউ বয়সসীমা অতিক্রম করে অন্য কোথাও চাকরির সুযোগ হারিয়ে কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।তাদের ভাষ্য, এই শিক্ষকরা জীবনের মূল্যবান সময় বিদ্যালয়ে ব্যয় করেছেন। এখন বয়স বেড়ে যাওয়ায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগও নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কেন্দ্রীয় কমিটি) যুগ্ম মহাসচিব সাদ্দাম হোসেন রুহান মণ্ডল বলেন, “দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ১৬ হাজার ৬৩৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বিনা বেতনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছেন। কিন্তু আজও তাদের কোনো স্বীকৃতি বা আর্থিক নিরাপত্তা নেই। অনেক শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকেই বয়সের কারণে অন্য কোথাও চাকরি করতে পারছেন না।” তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে আমাদের বিনীত আবেদন, মানবিক বিবেচনায় এই ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় দ্রুত জাতীয়করণ বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় এনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। এতে হাজারো পরিবার মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পাবে এবং গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থাও টিকে থাকবে।” শিক্ষক নেতারা জানান, বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ না হলে একদিকে যেমন হাজারো শিক্ষক-শিক্ষিকার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে, অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তারা দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, শিক্ষা বিস্তার এবং গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে এই বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

সাদ্দাম হোসেন রুহান মন্ডল
যুগ্ম মহাসচিব:বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কেন্দ্রীয় কমিটি), ঢাকা।
ফোন: ০১৬১২২৭৬৫০৪

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর