ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে ৯৮১ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেল দুদক
মানব কথা:গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ৯৮১ কোটি টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগে ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে বেআইনিভাবে আইপিপি রেটের সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির উপ-পরিচালক (বিসি অনুঃ ও তদন্ত-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে দাখিল করা অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।
চার অভিযোগে একসঙ্গে অনুসন্ধান:
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চারটি গুরুতর অভিযোগ একত্রে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগগুলো হলো—
- জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল,
- অবৈধ সম্পদ অর্জন,
- বিদেশে অর্থ পাচার,
- গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে অনিয়ম।
এসব অভিযোগের তদন্তে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তিতাস ও কর্ণফুলী গ্যাসের বিপুল বকেয়া :
দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে আইপিপি রেটের সুবিধা গ্রহণ করে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল অঙ্কের গ্যাস বিল পরিশোধ করেনি।
তদন্তে দেখা গেছে—
- তিতাস গ্যাসের জানুয়ারি ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত বকেয়া ৪৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৬১১ টাকা ৭৫ পয়সা।
- কর্ণফুলী গ্যাসের অক্টোবর ২০১৮ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বকেয়া ৪৯৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ টাকা।
দুই প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা।
প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে:
আদালতে দাখিল করা অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা:
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান সম্পন্ন হলে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গ্যাস বিল পরিশোধে অনিয়ম, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পাবে বলে জানিয়েছে দুদক।










