প্রায় ১৬ হাজার ৬৩৬ শিক্ষকের আবেদন:জাতীয়করণ হলে সরকারের মোট খরচ হয় প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা
মানব কথা: দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে জাতীয়করণের বাইরে থাকা ৪১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ হাজার ৬৩৬ জন শিক্ষক নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করলেও এখনো তারা সরকারি স্বীকৃতি ও চাকরির নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত।
শিক্ষকদের দাবি:
সরকার পরিবর্তনের পর তারা আশা করেছিলেন তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ৪১৫৯টি বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ বিষয়ে একটি চিঠি জারি হয়। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি কনসালটেশন কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে উপদেষ্টা, সচিব, উপসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন বলে তারা জানান।শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। গত ১৩ বছর ধরে তারা বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য কেউ টিউশনি করেন, কেউ অটোরিকশা চালান, আবার কেউ রাতের বেলা নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পারছেন না এবং অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তাদের দাবি:
২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এসব বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু উপবৃত্তি ও সরকারি আর্থিক সহায়তা না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর অনেকগুলোই বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এ সময়ের মধ্যে অনেক শিক্ষক বিনা বেতনে মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকে অবসরে গেছেন এবং অনেকেই বয়সসীমা অতিক্রম করায় অন্য কোনো চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন না।শিক্ষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১৬ হাজার ৬৩৬ জন শিক্ষককে মাসিক ২০ হাজার টাকা করে বেতন প্রদান করলে সরকারের মাসিক ব্যয় হবে প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। তাদের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এই ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হতে পারে।
শিক্ষকরা আরও দাবি করেন:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন। তাই একই সময়ে জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ৪১৫৯টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তারা।শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, এই ৪১৫৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় এসব বিদ্যালয় বৈষম্যের শিকার হয়েছে।প্রায় ১৬ হাজার ৬৩৬ জন শিক্ষক ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করা এসব শিক্ষককে জাতীয়করণের মাধ্যমে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও মানসম্মত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
যুগ্ম মহাসচিব









