৬ মাসে ‘সবার আগে দলীয় তন্ত্র’ প্রাধান্য দিয়েছে সরকার: এবি পার্টি

সময়: 9:05 am - August 17, 2026 |

মানব কথা: সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির অভিযোগ, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর পরিবর্তে সরকার ‘সবার আগে দলীয় তন্ত্র’কে প্রাধান্য দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, প্রশাসনে দলীয়করণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস কম সময় নয়। সরকারের মেয়াদের প্রায় ১০ ভাগের একভাগ সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে এই সময়ের ভিত্তিতে সরকারের পূর্ণাঙ্গ সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করা সম্ভব নয়।তিনি বলেন, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, শাসনব্যবস্থা, উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গণতান্ত্রিক চর্চার মতো বিভিন্ন সূচকে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে গত ছয় মাসে আশানুরূপ উন্নতি দেখা যায়নি। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে উদ্বেগ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে শত শত শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে এক হাজারের বেশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী জীবনমানের উন্নতি হয়নি। জ্বালানি খাতে আগের ‘মাফিয়া চক্র’ এখনো সক্রিয় থাকায় সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হতে পারে।জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেন মঞ্জু।

কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি নিয়ে সমালোচনা

সরকার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে বেকারত্ব বেড়েছে বলে দাবি করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় রয়েছে।দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রাম কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় পুরোহিতদের ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার সামাজিক অর্থনীতিতে গতি আনতে চেয়েছিল উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, এসব উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়। বরং বিভিন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।

‘জনগণই রাজপথে নামবে’

সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তাতে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রয়োজন নাও হতে পারে। জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষই ধৈর্য হারিয়ে রাজপথে নামবে।প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতা, সময়ানুবর্তিতা ও সাদামাটা জীবনযাপনের বার্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেই চর্চার প্রতিফলন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে, যা কাম্য নয়। তবে রাজনৈতিক সহনশীলতা এখন পর্যন্ত রয়েছে—এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করে পুরো মেয়াদে এই সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ প্রসঙ্গে ফুয়াদ বলেন, সংসদে নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া জ্বালানি খাতকে বেসরকারিকরণ করা যাবে না। তারা বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে নন, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়।ভারত সফরের বিষয়ে সরকারের অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কথা জানিয়ে তিনি জঙ্গি ইস্যু সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সমাধানের পরামর্শ দেন।সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, ‘৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর মতো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে দলীয়করণ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে।তারা আরও অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পথে না হেঁটে সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করছে।সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, এনইসি সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর