বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে দু’টি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব, স্থলবন্দরের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

সময়: 11:43 am - August 18, 2026 |

মানব কথা:বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ডিজিটাল রূপান্তর এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নিয়ে দু’টি যৌথ ব্যবসায়িক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। একই সঙ্গে বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহনব্যবস্থা আরও দ্রুত ও দক্ষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সিআইআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে বেনাপোলে কার্গো হ্যান্ডলিং আরও দক্ষ করা এবং সীমান্তে পণ্য চলাচল সহজ করা গেলে পরিবহন ও কাঁচামাল সংগ্রহের ব্যয় কমবে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যও বাড়বে। তিনি বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে দুটি বিজনেস-টু-বিজনেস টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবে। অন্যটি বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর উপায় খুঁজবে। এ প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে বড় পরিসরে অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য। নতুন রেলপথ, মহাসড়ক, বন্দর এবং এলএনজি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল বিনিয়োগ ও অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা যদি এসব খাতে আগ্রহ দেখান এবং তা বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হয়, তাহলে সরকার সেই সহযোগিতাকে ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করবে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুরোপুরি আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তবে দুই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ যত বাড়বে, উভয় দেশই তত বেশি লাভবান হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পর বাজার পরিস্থিতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে তিনি বলেন, শুধু বাজার তদারকি করে পণ্যের দাম কমানো সম্ভব নয়। জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য, ঋণের সুদের হার, উৎপাদনশীলতা, পরিবহনব্যবস্থা এবং অবকাঠামো- এসব বিষয়ের সঙ্গে দ্রব্যমূল্য সরাসরি সম্পর্কিত।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। ফলে উৎপাদনকেন্দ্র থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই চাপ ভোক্তাদের ওপর পড়ে। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ এবং দক্ষ সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। দ্রব্যমূল্য কমানোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ফলের প্রত্যাশা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জ্বালানি সক্ষমতা গড়ে তুলতে সময় লাগে। নতুন এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণ, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ ও সবজির মৌসুমি মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে উৎপাদন বাড়লেও বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়। এই মৌসুমি ব্যবধান কমাতে কৃষি মন্ত্রণালয় কন্ট্রাক্ট ফার্মিংসহ পরিকল্পিত উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি, অবকাঠামো, উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নিতে পারলে বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে জীবনযাত্রার ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে। সূত্র : বাসস

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর