পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ

সময়: 8:08 am - September 1, 2026 |

শহিদুল ইসলাম:স্টাফ রিপোর্টার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সাংবিধানিকভাবে শপথ গ্রহণের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী আসলাম মিয়া বলেন, ‘আমরা সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব না পেলে হাইকোর্টে রিট ফাইলসহ আইনি প্রতিকার চাইব।’

সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ যাচাইয়ের দাবি

আইনি নোটিশে সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে দুই মন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা, নাগরিকত্ব, আনুগত্য ও শপথের বিষয়গুলো সাংবিধানিকভাবে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।নোটিশে সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশের নাগরিক এবং ২৫ বছর বয়সী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য। অন্যদিকে ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার বা স্বীকৃতি দিলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা সংসদ সদস্য থাকার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে।তবে ৬৬(২এ) অনুচ্ছেদে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক কোনো ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তা ত্যাগ করার পর তার সাংবিধানিক অবস্থান সম্পর্কে বিশেষ বিধান রয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের ইতিহাস ও বর্তমান আইনগত অবস্থান যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শপথের বৈধতাও যাচাইয়ের দাবি

নোটিশে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তৃতীয় তফসিলে উল্লেখিত পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিকে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্ধারিত শপথ বা ঘোষণা করতে হয়। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শপথে বাংলাদেশের প্রতি সত্যিকার বিশ্বাস ও আনুগত্য এবং সংবিধান সংরক্ষণ, রক্ষা ও প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার রয়েছে।ড. খলিলুর রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন উল্লেখ করে নোটিশে তার নাগরিকত্ব ও বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।এর মধ্যে রয়েছে—তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কি না, কখনো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়েছেন কি না, বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ করেছেন বা করেন কি না, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছেন কি না এবং বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তা কবে ত্যাগ করেছেন।একইভাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব ও বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করার আহ্বান

আইনি নোটিশে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, অভিবাসন, জাতীয়তা, নাগরিকত্ব গ্রহণ ও ত্যাগের রেকর্ডসহ প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।এ ছাড়া তাদের নিয়োগ ও দায়িত্ব গ্রহণ সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, কোনো অযোগ্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির নিয়োগ ও দায়িত্বে বহাল থাকার সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি প্রকাশ বা জানাতে বলা হয়েছে।

সাত দিনের সময়, এরপর রিটের হুঁশিয়ারি

নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন আইনজীবী আসলাম মিয়া।নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ বা সিদ্ধান্ত নয়; বরং নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার উদ্দেশ্যেই নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে বা সাংবিধানিক প্রশ্নটি অনিষ্পন্ন থাকলে সংবিধান ও আইনে বিদ্যমান প্রতিকার গ্রহণের জন্য উপযুক্ত সাংবিধানিক বা বিচারিক ফোরামে যাওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর