রপ্তানিতে লাগাম, সুগন্ধি চালের কোটা কমল ৫০ শতাংশ

সময়: 10:57 am - September 8, 2026 |

তাহের মাহমুদ:

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এ অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

রপ্তানিতে ১০ শর্ত :কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শর্ত অনুযায়ী, রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণও দিতে হবে। সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি কোনোভাবেই চাল রপ্তানি করা যাবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য করা হয়েছে। সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগ থাকবে না। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রোসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) বা রপ্তানি আয় প্রত্যাবাসন সনদ দাখিলও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, সুগন্ধি চাল রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই বিবেচনায় রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের নির্ধারিত সীমার মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ রপ্তানি অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এতে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি পরিচালনা করা।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর