প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ স্পষ্ট হয়েছে: রাষ্ট্রপতি

সময়: 9:19 am - September 26, 2026 |

বিশেষ প্রতিনিধি:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার দেওয়া এক অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর এ ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থানকে আরও সমুন্নত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।  রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার এবং একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ও তুলে ধরা হয়েছে। দেশ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’—‘থ্রি আর’ কৌশলের কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান:

অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, বিশ্বশান্তি, বহুপক্ষীয়তা, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে সৃষ্ট চাপ, জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির চিত্রও উঠে এসেছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি।

সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তির আহ্বান:

জাতিসংঘকে ‘একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে দেখার প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সংঘাতময় বিশ্বে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে আন্তর্জাতিক শান্তি, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’

প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়ের উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এতে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ভাষণে দেশের জনগণের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নারী ও যুবসমাজের উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য

রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া একটি গৌরবময় ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। সবশেষে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য এবং তাঁর নিরাপদ ও সফল সফর কামনা করেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর