১৭ বছর ভোটাধিকার ছিল না, উন্নয়নের নামে ‘লুটপাটতন্ত্র’: ড. তিতুমীর
মিজানুর রহমান:
গত ১৭ বছর দেশে জনগণের ভোটাধিকার ও সঠিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর দাবি, ওই সময়ে দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে স্বৈরতন্ত্র ছিল। ফলে উন্নয়নের নামে যে বয়ান দেওয়া হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ফানুসের মতো ফেটে গেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. তিতুমীর বলেন, তাঁর ভাষায়, বর্তমান সরকার এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, যা অত্যন্ত ভঙ্গুর। এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বে ঋণখেলাপিদের শীর্ষে অবস্থান করছে বলেও দাবি করেন তিনি। ড. তিতুমীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে নানা কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সংকটের মতো পরিস্থিতির মধ্যেও জিয়াউর রহমান নতুন আয়ের উৎস খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর পথ তৈরি করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তুলে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, নারীদের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করার ফলে দেশের পোশাকশিল্প বিশ্ববাজারে জায়গা করে নেয়।
ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারা দেশে উৎপাদনকেন্দ্র বা ‘প্রোডাকশন হাব’ স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ভাঙ্গা উপজেলায় ট্রমা সেন্টার না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেন ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, ২১ জেলার মানুষ যে উপজেলার ওপর দিয়ে যাতায়াত করেন, সেখানে এখনো ট্রমা সেন্টার নেই। ভাঙ্গায় ট্রমা সেন্টার না থাকাকে ‘জাতির জন্য একটি ট্রমার বিষয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিগত সরকারের সময়ে ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ড. তিতুমীর। অথচ উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বৃহত্তর ফরিদপুর, এমনকি গোপালগঞ্জসহ এ অঞ্চলে বেকারত্বের হার বেশি। উন্নয়নের নামে সেখানে ‘লুটপাটতন্ত্র’ চালু ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সভায় ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বিটু মুন্সী এবং ভাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সভাপতি ওসমান মুন্সীসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।









