আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়: আইনমন্ত্রী

সময়: 8:02 am - October 13, 2026 |

নিজস্ব প্রতিবেদক:আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম, ধৈর্য ও ত্যাগের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, শুধু আইনের ধারা জানা কিংবা মুখস্থ করলেই ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না। এ জন্য পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত ‘কনভোকেশন অ্যান্ড ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পাঁচ বছরে ৫০০ ইন্টার্ন নিয়োগের পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ ইন্টার্ন নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার ভিত্তিতে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের বাছাইয়ের চেষ্টা করা হবে।সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন বিষয়ে স্নাতক করা সবাই আইনজীবী হবেন, এমন নয়। কেউ বিচারক হবেন, কেউ করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, আবার কেউ অন্য পেশায় যুক্ত হবেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে পারলে তা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে বড় সম্পদ হিসেবে কাজে লাগবে।

এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

আইন পেশার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কথা উল্লেখ করেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ আইনজীবীদের প্রতিনিয়ত নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আইনের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি আদালতের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিতে হবে।মানবাধিকার কমিশন আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ও সাইবার আইন সংশোধনের মতো বিভিন্ন উদ্যোগে তরুণদের অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আইনজীবীদের থাকতে হবে বহুমুখী জ্ঞান

আইনমন্ত্রী বলেন, একজন ভালো আইনজীবী হতে হলে অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। হত্যা মামলায় শারীরস্থান সম্পর্কে ধারণা কাজে লাগে, আবার আর্থিক বিরোধের মামলা পরিচালনায় অর্থনীতির জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ।আইনজীবীরা সমাজের বিভিন্ন অসংগতি দূর করার পথ দেখান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই তাঁদের সামাজিক প্রকৌশলীও বলা হয়।

প্রতিষ্ঠিত হতে পেরোতে হয় পাঁচটি ধাপ

আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কর্মজীবনের শুরুতে অনেক আইনজীবীকে কাজ করেও পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও কাজের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও বাড়ে।বিচারপতি মোস্তফা কামালের ব্যাখ্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আইনজীবীদের কর্মজীবনের পাঁচটি পর্যায়ের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো—কাজ নেই, পারিশ্রমিক নেই; কিছু কাজ, পারিশ্রমিক নেই; কিছু কাজ, কিছু পারিশ্রমিক; বেশি কাজ, বেশি পারিশ্রমিক; এবং শেষ পর্যায়ে কাজ কমলেও আয় বেশি হওয়া।

অনৈতিক চর্চা বন্ধে জবাবদিহি জরুরি

আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সমাজে আইনজীবীদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা তৈরি করতে হবে। একজন আইনজীবীর পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার মাধ্যমে।তিনি বলেন, ভালো যুক্তি উপস্থাপন কিংবা আইনের গভীর জ্ঞান থাকলেই কাউকে ভালো আইনজীবী বলা যায় না। মক্কেলের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়া কিংবা বিচারকের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের কথা বলে অর্থ আদায়ের মতো অনৈতিক চর্চা বন্ধ করতে হবে।বিচারকদের অসদাচরণের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনজীবীদের আচরণবিধিরও যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।

দরিদ্র মানুষের আইনি সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান

আইনমন্ত্রী বলেন, সব মক্কেলের পক্ষে আইনজীবীর পারিশ্রমিক দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের আইনি সহায়তায় আইনজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে। একজন আইনজীবীকে ভালো পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে হবে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি তরুণদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর