সরকারি স্কুলে ভর্তির বয়স, ফি ও কোটা নির্ধারণ করল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করে। নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন গ্রহণ, আবেদন ফি পরিশোধ, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশসহ পুরো কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে ৫৫ জন। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী বয়স ৬ বছর বা তার বেশি নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছরের মধ্যে থাকলে আবেদনের সুযোগ পাবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দক্রমে রাখতে পারবে। তবে দ্বৈত শিফটের কোনো বিদ্যালয়ের উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি বিদ্যালয় পছন্দ করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে এ লটারির আয়োজন করবে।
ভর্তি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে। নীতিমালায় শ্রেণিভেদে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষার পূর্ণমান ৫০। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় দুই ঘণ্টা।প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই থেকে প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র মানসম্মত ও সংশ্লিষ্ট শ্রেণির উপযোগী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভর্তির আবেদন ফিও নির্ধারণ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ফি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা নেওয়া যাবে। অন্যদিকে, সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করতে হবে।
নতুন নীতিমালায় বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর আওতাধীন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার বিধান রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে তাঁদের সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতিটি শাখায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও তদারকির জন্য ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি ভর্তি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ তদারকি করবে। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী নির্বাচন ও ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার পাশাপাশি লটারি ও লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শ্রেণিভিত্তিক ভর্তি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।









