লটারীর নাটাই লুটেরাদের হাতে শ ম রেজাউল করিমের ভাগিনা আ ন ম মাজহারের ক্যাটাগরি বানিজ্যের নামে অর্ধ শত কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
১৩ আক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার ) দুপুরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে সরাসরি লটারীর মাধ্যমে বদলী করা হয় ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলী পদের কর্মকর্তাকে। এই লটারীতে কত গূলো নির্দিষ্ট বাক্সে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে কোন ধরনের জেলায় দেয়া হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে। প্রকৌশলীদের এই ক্যাটাগরী করার মানদন্ড কি আর কাকেই বা সেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারা নিরপেক্ষভাবে বক্তিস্বার্থের উর্ধে উঠে ক্যাটাগরি নির্ধারন করেছেন কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আ ন ম মাজাহার ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সংস্থাপন সরোয়ার জাহান বিপ্লব এই দুই জন লটারী সিন্ডিকেট করে অর্ধ শত কোটি কালেকশন করে ভাগভাটোরায়া করেছেন বলে একাধিক সুত্রো নিশ্চিত করছেন। ফলে লটারীর উদ্দেশ্য যাই থাকুক তার ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একেবারে ব্যক্তি বিদ্বেষে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা অফিসারদের সফল ভাবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পাদনের প্রমানিত ট্র্যাক রেকর্ড থাকা সত্বেও সেই সব কর্মকর্তাদের ফেলা হয়েছে তদবীরবাজ কর্মকর্তাদের ক্যাটাগরিতে। যেমন সংস্থাপনের দুই নির্বাহী প্রকৌশলী আনম মাজহারুল ইসলাম ও জিয়া যথাক্রমে শেরে বাংলা নগর ২ ও ১ এ উঠা কি শুধুই কাকতাল। জিয়া কোন যোগ্যতায় টপ টুয়েন্টি কেটাগরিতে পড়েন? এই জিয়া ফ্যাসিস্টের আমলে ঠিকাদারের সাথে পার্সেন্টেজ নিয়ে মারামারি করে ওএসডি হয়ে ভবনে পড়ে থাকেন। একটি ফিল্ড চালাতে না পারা এই অচল মাদুই বছর রিজার্ভে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এসময় ভোল পাল্টে টাখনুর উপর প্যান্ট মাথায় টুপির লেবাস ধরেছেন। পরে সংস্থাপন এ গিয়ে বিতর্কিত নিয়োগ বাণিজ্য করে ভাল কামিয়েছেন।
অথচ ২৭ বিসিএস এ প্রথম স্থান অধিকারি জনাব মহসীন কোন দিন ঢাকায় নির্বাহী প্রকৌশলী পদে চাকুরি করেনন নি, নৈতিকতা ও সততার মানদন্ড হোক কিংবা কারিগরি দক্ষতা কোন দিক থেকেই তিনি ৩৩ বিসিএস এর মাসুম বিল্লাহএর থেকে কম যোগ্যতা সম্পন্ন নন। অথচ তিনি কুষ্টিয়া থেকে ফেনী গেলেও, আজীবন ঢাকায় চাকুরি করা দূর্নীতির বরপুত্র মাসুম বিল্লাহ ৬ মাসের মধ্যে আবার ঢাকায় ঢুকে পড়েছেন।ফ্যাসিস্টের সুবিধা ভোগী মজাহার এখন ভোল পালটে সাধু সেজেছেনঃ আনম মাজহারুল ইসলাম যেন গণপূর্তের নওফেল চৌধুরী। ফ্যাসিস্টের শিক্ষাপ্রতি মন্ত্রী নওফেল যেমন নামে মুসলিম হলেও ইসকনের একনিষ্ঠ কর্মী, আনম মাজাহারুল ইসলামও তেমনি ইসকনের সদস্য। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শঙ্কর কুমার মালোর শীষ্য। শঙ্কর কুমার মালো দ্রোনাচার্য তো মাজহার একলব্য। এই শঙ্কর কুমার মালোর বদৌলতে ফ্যাসিস্টের পুরোটা সময় ঢাকায় ভালো পোস্টিং এ ছিলেন। ফ্যাসিস্টের পুরোটা সময় তিনি তেজগাঁও গণপূর্ত উপবিভাগ, রেলওয়ে ডাইভারশন উপ বিভাগে(সাড়ে তিন বছর), পরে শঙ্কর মালো ঢাকা ডিভিশন ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হলে তিনি রাজারবাগ উপবিভাগ ১ এ পোস্টিং বাগিয়ে নেন। এই শঙ্কর মালোর স্ত্রী ২০ তম বিসিএস এর কর্মকর্তা যার সাথে শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-১ কাজী নিশাত রসুল এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই নিশাত রসুলের একই ব্যাচের ভোলপাল্টে বিএনপি সাজা এক আমলার সাথে খোলামেলা সম্পর্ক গড়ে উঠে। ফলে মাজহার ক্যাটাগরি বানিজ্যের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ার বনে যান।
আওয়ামী মন্ত্রী শম রেজাউল করিমের ভাগিনা নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পাওয়ার পরে তিনি ঢাকা ডিভিশন -৩ এ বসে যান। সে সময় পূর্ত মন্ত্রী শম রেজাউল করিম তার আপন মামা। ঢাকা ডিভিশন ৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী থাকলেও টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রন করতেন গোটা অধিদপ্তরে। সে সময় “ছাত্র লীগ করে সরকারি চাকুরিতে ঢোকা …” শিরোনামে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজেকে আত্ম স্বীকৃত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিতেন। মামার প্রভাব খাটিয়ে প্রধান প্রকৌশলী পদে মইনুল কে বসাতে চেয়েছিলেন। শ ম রেজাউল করিমের সময়ে প্রভাব খাটিয়ে আমেরিকা ও ম্যাক্সিকো ভ্রমন করেছেন। দূর্নীতির টাকায় অস্বাভাবিক বিলাসী জীবন সে সময়ে কারি কারি টাকা কামিয়েছেন। সেই টাকা দিয়ে ঢাকা শহরের নানা জায়গায় ফ্ল্যাট ও প্লট কিনেছেন। তিনি মিরুপুরে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে সাবেক উপ-সচিব ও পরে যুগ্ম সচিব হিসাবে অবসর প্রাপ্ত সুবোধ চন্দ্র ঢালী এর সাথে একই বিল্ডিং এ ফ্ল্যাট কিনেছেন। তাছাড়া তিনি মিরপুর ক্লাব এর সদস্য। রাজধানীর ক্লাব গুলোতে সদস্য ফি নূন্যতম ৬ লাখ টাকা। একজন গ্রেড ৫ এর কর্মকর্তা একের পর এক ক্লাবের সদস্য হওয়ার টাকা কোথায় পান?
সংস্থাপনে নিয়োগ বদলী বানিজ্যে লুটপাটঃ মাজাহার ও প্রদীপ বসু মিলে আওয়ামীলীগের গুন্ডাদের এক বছরে সাড়ে চার হাজার লাইসেন্স দিয়েছেন। সেখানে জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। কথায় আছে ঢেকি স্বর্গে গেলেও বারা বানে। মাজাহারও তেমনি সদ্য শেষ হওয়া কর্মচারীদের নিয়োগে ৪৫০ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর এপোয়েনম্যান্ট লেটার ইস্যু করতে জন প্রতি ২ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। সেই টাকার অর্ধেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান বিপ্লব বাকি অর্ধেক মাজাহার খেয়েছেন মর্মে জানা যায়। এরা মানুষের কাছ থেকে এক হাজার টাকা ঘুষও খায় তাহলে? মাজাহারের ঘনিষ্ঠ এক বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশল পরিষদের নেতা এবার লটারীতে ঢাকার গুরুত্ব পূর্ন পোস্ট পেয়েছেন। একইভাবে মাজাহারের ঘনিষ্ট বুয়েট ৯৯ ব্যাচের সদস্যরা আপাদ মস্তক দূর্নীতিবাজ, কেউ কেউ অদক্ষ, ফ্যাসিস্ট আমলের বেনিফিসিয়ারি হলেও লটারীতে বিশেষ চিহ্নযুক্ত সবুজ বাক্সের মাধ্যমে দাও মেরেছেন। শুধু নির্বাহী প্রকৌশলী পদে নয়, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী ও উপসহকারী পদে আসলে লটারির মাধ্যেমে মূলত প্রহসন করা হয়েছে। বদরুল-নাসের-আফসার, সারোয়ার জাহান, কিংবা মাজাহার, স্বপন চাকমা, মাসুদ রানা এদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অকাট্য প্রমান সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এরা থেকে যান ধরা ছোয়ার বাহিরে। এদের কে শেল্টার দিচ্ছে কারা? প্রধান প্রকৌশলীর আস্কারা ছাড়া তা কি হওয়া সম্ভব? নিশ্চিত ভাবেই তিনি অবসরের পর অস্ট্রেলিয়া চলে যাবেন। কাজেই তার ঘনিষ্ঠ জনদের আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষনে রাখব যাতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ করা যায়।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অপর দুই গুরুত্ব পূর্ণ সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে সেবা নিতে এসে সাধারন জনগণ পদে পদে ভোগান্তির স্বীকার হন। কথায় আছে জাগৃকের ইট কাঠ দেয়ালও নাকি ঘুষ ছাড়া কথা বলে না। এই দুটি প্রতিষ্ঠান অবশ্যই গণপূর্ত অধিদপ্তরের চেয়ে দূর্নীতিগ্রস্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের পিয়ন চাপরাশিরও ঢাকা শহরে কয়েকটি বাড়ি থাকে। অথচ রাজউক ও জাগৃকে এই ধরনের লটারী ও দূর্নিতি রোধে কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। অনলাইনে নকশা পাশ আসলে কাজীর গরু কেতাবেই আছে, বাস্তবে যে নকশা পাস করাতে যায় সেই বুঝে কত ধানে কত চাল। ঢাকার মিরপুর -মোহাম্মদপুরে যে দখল বাজি, মামলা তা জাগৃকের অব্যবস্থাপনার ফল। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতায় এর চেয়ে অনেক দামী জমি থাকলেও তাতে নৈরাজ্য নেই। রাজউক ও জাগৃকে সংস্কার না করে আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরে হাত দেয়া চোখের কাটা না খুলে পায়ের কাটা আগে খুলার মতো নয়কি? যদি ড্যাপ সংশোধনের নামে জলাশয় ভরাট করা হয়, যদি নতুন করে কৃষি জমি অধিগ্রহন করে রাজউকের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়, ড্যাপে যদি ভূমি দস্যুদের সুবিধা দেয়ার নীতিমালা ঢুকিয়ে দেয়া হয় তবে এই লটারী আসলে চটকদারিই হয়ে থাকবে। বেগম পাড়ার তথ্য নিলে দেখা যায় তাতে প্রকৌশলীদের সংখ্যা খুবই নগন্য, বরং সেখানে সাবেক আমলা, রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া অসৎ ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি। দূর্নীতির মাত্রায় প্রকৌশলীরা চুনোপুঁটিই। মন্ত্রনালয় চাইলে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত কতে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ক্যাটাগরি করতে পারত, তারপর যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে নিরপেক্ষ বডি দিয়ে পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীর কারিগরী জ্ঞান ও সরকারি বিধি সম্পর্কে জ্ঞান যাচাই করে তাতে একটা ওয়েটেজ রাখতে পারতো, প্রার্থী তার চাকুরি জীবনে সমাপ্ত প্রকল্প সম্পর্কে প্রতিবেদন দিবে ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে মেথডোলজি দাখিল করবে, তারপর এই সমস্ত তথ্য ম্যাট্রিক্স আকারে নিয়ে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে যোগ্য কর্মকর্তা বাছাই করা যেতে পারতো। উন্নত বিশ্বে এভাবেই প্রজেক্ট ম্যানেজার বা টিম লীডার নির্বাচন করা হয়। তা না করে কোন দেব দূত কার কর্ণ কূহরে দৈববানী ঢেলে দিয়েছেন তার ভিত্তিতে যোগ্য কর্মকর্তা বাছাই মোটেও বিজ্ঞান সম্মত হয়ছে বলে মনে হয় না। একটি প্রশ্নবিদ্ধ লটারীর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্ব পুর্ণ প্রকৌশল সংস্থার মনোবল ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে কার স্বার্থে?










