সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন কর্মীদের সরানোর নির্দেশ

সময়: 7:32 am - October 22, 2026 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরব থেকে জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা এবং বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বুধবার (২১ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবে আরও হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় প্রাণহানি ঘটছে এবং যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।  সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবারের হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন প্রতিহত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত ও আরও দুইজন আহত হন। তবে ওই হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, বুধবারের আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশিত প্রস্থান সৌদি আরবে কর্মরত জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্যই প্রযোজ্য।

সৌদি আরবকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি ইয়েমেনেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর একটি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের সঙ্গে সৌদি আরবও জড়িত। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে ইয়েমেনে হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের বিস্তার সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবে নতুন হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইরানে নতুন করে সরাসরি মার্কিন হামলার কোনো পরিকল্পনা যুক্ত রয়েছে—এমন তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত বক্তব্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও, সৌদি আরব থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশকে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে আঞ্চলিক হামলা, পাল্টা পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নয়, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও জ্বালানি সরবরাহের জন্যও উদ্বেগ তৈরি করছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইয়েমেনে সংঘাতের বিস্তার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর