ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালানো হাসান মোল্লার সহযোগী সিবিএ নেতা রেজাউল করিম এখনও বহাল তবিয়তে

মানব কথা: ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রাকাশ্যে গুলি চালানো হাসান মোল্লার সহযোগী সিবিএ নেতা রেজাউল করিম এখনও বহাল তবিয়তে।
জানা যায়, ছাত্র ও জনতার আন্দোলনে প্রাকাশ্যে গুলি চালানো সাবেক সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাওসার মোল্লার ভাগ্নে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদার সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান মোল্লার সহযোগী বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন রেজিঃ নং বি-২০০৫ (জাতীয় শ্রমিক লীগ অন্তর্ভুক্ত) কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি সিবিএ নেতা রেজাউল করিম এখনও ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ বহাল তবিয়তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। মোঃ রেজাউল করিমের ভাগ্নে হিসাবে ছিলেন ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার হিসাবে ছিলেন হাসান মোল্লা অফিসারদের ভাটে বা সাইজ করতে বড় বড় কাজ বাগিয়ে নিতে হবে সম্পুর্ন পরামর্শদাতা ছিলেন ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যতম সিবিএ নেতা নামধারী এই দোসর রেজাউল করিম। রেজাউল করিমের দাপটে ডিভিশন ক্যাম্পাসের ভিতর তিনটি রুম দখল একটি টর্চার সেল করেন। ফ্যাসিবাদ সরকারের বিদায়ের পর হাসান মোল্লার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মা বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ কালো তালিকা ভূক্ত করা হয়েছে। হাসান মোল্লার অশ্রয় প্রশয় দাতারা এখনও ধরাছোয়ার বাহিরে। এবিষয় এক কর্মকর্তা বলেন, হাসান মোল্লার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুজ্জামান চুন্নুকে ফরিদপুরে বদলী করা হয়েছে কিন্তু সিবিএ নেতা মোঃ রেজাউল করিম এখনও শাস্তির আওতার বাহিরে রয়েছেন। বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন রেজিঃ নং বি-২০০৫ (জাতীয় শ্রমিক লীগ অভযুক্ত) মোঃ রেজাউল করিম, হিসাব সহকারী পদে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪, ঢাকায় অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে চেক জালিয়াতি করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেন রেজাউল করিম । এ ব্যাপারে বিভাগীয় মামলা হয় এবং যথাযথা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যতা প্রমান পেয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদ সরকারের ক্ষমতার দাপটে কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
নিম্নে সাধারণ কর্মচারীদের জিম্মিদশা ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হলো।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১০৭৭ জন কিচার্জড (কার্যভিত্তিক) কর্মচারীদের নিয়মিত করনের বিষয়ে সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম বিভিন্ন ভাবে ইউনিয়ন কার্যালয় বসে কর্মচারীদের নিকট হতে ১,৬৮,০০০০০ টাকা উত্তোলন করেছেন মর্মে মোঃ আনোয়ার যোসেন, ক্যাশ সরকার, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। কিন্তু মোঃ ডেলউল করিম এর ক্ষমতার দাপটে আবেদনের অভিযোগের বিষয়ে অদ্যবধি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করার সাহস পাননি। মহামান্য আদালতের রায়ের আলোকে কার্যভিত্তিক ১৭৯ জনকে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আনায়নকৃত কর্মচারীদের পদায়ন আদেশ এবং তাদের পছন্দ অনুযায়ী পদায়ন করে দেওয়ার বানিজ্য করে সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম নিয়মিতকৃত নিরীহ উক্ত ১৭৯ জনের প্রত্যেকের নিকট হতে ২০,০০০ টাকা উত্তোলন করে ৩৫,৮০,০০০ টাকা সমুদয় অর্থ একা ভোগ করে এতে বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন অন্য সকল নেতার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অথচ প্রশাসনিক নিয়মানুযায়ী উক্ত নিয়মিত আদেশসহ কর্মচারীদের বয়স বিষেচনায় মানবিক কারনে শূন্য
পদ সাপেক্ষে পদায়ন করা হয়।
ভাউচার ভিত্তিক দৈনিক ভিত্তিক। গণপূর্ত অধিদপ্তরে দৈনিক তিরিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের মধ্যে ১৩৯১ জনকে ওয়ার্কচার্স (কার্যভিত্তিক) প্রতিষ্ঠানে আনয়নের ব্যবস্থা করে দিবে বলে সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম এর নিকট বিভিন্ন সময়ে দুই কিজিতে ৫,০০০ টাকা করে মোট ১,০৯১০,০০০ টাকা দুর্ণীতি করা হয় বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনে ভাউচারে নিয়োজিতদের মুখ থেকেই ব্যাপ্ত ০৯/০৮/২০২৩ তারিখে ফেসবুকে লাইভ ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে প্রমাণিত। এ বিষয়ে প্রায় ৩০০ জন ভাউচার কর্মচারী স্বাক্ষর করে গত ২৪/০৮/২০২৩ তারিখে প্রধান প্রকৌশল বরাবর আবেদন করেন। যা সুষ্ঠু তদন্ত করলে সত্যতা বের হয়ে আসবে। ২১ সেপ্টম্বর ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৩১তম বৈঠকে আলোচ্যসূচী (৩) বিবিধ ৯.৩ এ মাননীয় সংসদ সদস্য বেগম ফরিদা খানম বলেন গণপূর্ত শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা অধিদপ্তরর সকল কাজকর্ম নিয়ান্ত্রন করার জন্য একটি সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রযোজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থজ গ্রহণের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দৃষ্টি আর্কষণ করেন বিন্তু অদ্যবধি মোঃ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি মদখোর রেজাউল করিমের ক্ষমতার উৎস কোথায় জাতি আজ তা জানতে চায়। অনুসন্ধানে দেখা যায় গোপালগঞ্জের বিরাট সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন মোঃ রেজাউল করিম।
নিয়োগ, বদলী ও বাসা বরাদ্দ বানিজ্য
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনী প্রায় ৪৫০ জনের নিয়োগ চলমান আছে। নিয়োগ পরীক্ষার উত্তর পত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে যার মূল নায়ক এই রেজাউল করিম ৫০ জনের কাছ থেকে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই সিবিএর সভাপতি রেজাউল করিম এক্য যে কারণে অন্য নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল তখনকার নেতাদের এ বিষয়ে বি-২০০৫ নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেজাউল করিমের কথার উপরে কোন নেতা কথা বলতে পারতো না কারন হাসান মোল্লার বাহিনী এনে হুমকি দিতো তাই জানের ভয়ে কেউ কিছু বলতো না। ফ্যাসিবাদের দোসর হাসান মোল্লার মামা সিবিএ সভাপতি এই রেজাউল রেজাউল করিম এয় নেতৃত্বে সিন্ডিকেট করে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের বদলী করে প্রত্যেকের নিকট থেকে ১,০০,০০০ কয়ে আদায় করেন। এরুপভাবে কর্মীরীদের বাসা বরাদ্দ করেও প্রত্যেকের নিকট থেকে ১,০০,০০০০ টাকা করে আদায় করেন। এই সিন্ডিকেটের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করত ফ্যাসিবাদের আরেক দোসর দূর্নীতিবাজ শহিদুল আলম, অতিরিত প্রধান প্রকৌপদী (সংস্থাপন ও সমন্বয় )। তার সহযোগিতায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে রেজাউল করিম রাম-রাজত্ব কায়েম করেছেন ।
মোঃ রেজাউল করিম গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সন্ত্রাসী সভাপতি হিসেবে খ্যাত। তিনি সভাপতি হওয়ার পূর্বে বিগত ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর মোখলেবুর রহমান ও সোহাগরে হত্যার উদ্দেশ্যে এ্যালিফেন্ট রোডে বর্বরোচিত হামলা করেন। পরবর্তীতে পথচারীগন তাদেরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ বর্বরোচিত হামলার পর রোজাউল গং দের বিরুদ্ধে মামলা করে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারের দাফটে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কাউছার মোল্লার দাফটে আজও তাদের বিচার হয়নি। শাহবাণ থানায় ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখের মামলা নং ১৩/১৯৬ এ ১ নম্বর আসামী ছিলেন রেজাউল করিম। তার সহযোগী হাসান মোল্লা গং ও তার বাহিনী। এ মামলার কয়েকজন আসামীর সাথে কথা হলে তারা প্রতিবেদক বলেন আমরা খালাস পেয়েছি তবে সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই স্বাধীন দেশে আমরা রেজাউল ও হাসান মোল্লা গংদের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু প্রশাসনিক কারণে অর্থের বিনিময়ে এ মামলা আজও অল্যের মুখ দেখছে না। এই সময় রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন থানায় ০৮ টি ফৌজদারী মামলা করা হয়। তার স্ত্রী পুলিশের এসআই পদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ওসি অপারেশন হওয়ায় স্ত্রীও ক্ষমতার দাপাটে রেজাউলের জুলুম অত্যচার , নামে-বেনামে বিভিন্ন চাদা আদায়সহ অন্যান্য অনৈতিক কাজ আরো তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফ্যাসিবাদ সরকারের সময় তিনি তার স্ত্রীর পুলিশ হোন্ডা ব্যবহার করে সর্বত্র চলা ফেরা করার কারণে কেউ তাকে কোন কথা বলার সাহস পেত না কারণ তার স্ত্রীর পোষ্টিং ছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণভবনে। একজন সিভিল পার্সন হয়েও পুলিশের ষ্টিকার লাগানো হোন্ড ব্যবহার তখন আইন সম্মত ছিল ৫ তারিখের পর স্বধীন দেশে এখন আর তাকে হোন্ডা ব্যবহার করতে দেখা যায় না। জাতি আজ তা জানতে চায় গণপূর্ত প্রশাসনের চোখ কি কালো কাপড়ে বাধা চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী হয়ে স্বাধীন দেশে এখনও বহাল তবিয়তে স্বামী ও স্ত্রী দুই জনি ঢাকা চাকরি করছেন নিয়মিত অফিস না করে বেতন তুলছেন।
মোঃ রেজাউল করিম, হিসাব সহকারী পদে ও তার স্ত্রী পুলিশের ওসি হয়ে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তার কিছু ফিরিস্তি তুলে ধরা হলো ঢাকার ধানমন্ডি, বনানী, বসুন্ধারা, নিকুঞ্জ ও মোহাম্মদপুর বার নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে ত্রিশালে রয়েছে পাচ তল বিশাল বাড়ি এবং তাদের জমিদার বলা হয়। আমেরিকার ম্যানহাটনে একটি বাড়ি রয়েছে। কারণ তার নামে ১০০ বিঘা জমি রয়েছে। ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়। এছাড়া তার স্ত্রী নামে টংগাইল শহরে সাত তলা একটি বাড়ি রয়েছে। তার স্ত্রী পুলিশের ওসি তিনি ডায়মন্ড ওয়াল্ড থেকে দুই কোটি টাকার সোনার গহনা কিনেছেন ও ২০০ ভরি সোনা রয়েছে। ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ হতে মোঃ রেজাউল করিম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন বলে জানা যায়।