বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মাহমুদুর রহমান মান্না
মানব কথা: বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।রোববার তার আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে এ সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন। সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ আপিল শুনানি হয়।
মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সৈয়দ মামুন মাহবুব, জ্যোর্তিময় বড়ুয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী।
শুনানি শেষে সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, “বগুড়া-২ আসনে রিটার্নিং অফিসার খুবই খেলো কারণে নাগরিক ঐক্যের সভাপতির মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল দুটি গ্রাউন্ডে- মামলার তথ্য গোপন ও সিগনেচারের তারিখে গড়মিল দেখিয়ে।
“আসলে ব্যাপার হচ্ছে—তার নামে দুটি মামলা ছিল, সেটি ফাইনাল রিপোর্ট হয়েছে কাজেই উনি অভিযুক্ত কখনোই হননি। আরেকটা হচ্ছে, এফিডেভিডে একটা সিগনেচার দুটা পাতায় দুইটা ডেটের একটা গড়মিল হয়েছে। এই ধরনের ছোটখাট মামুলি ভুল নির্বাচন কমিশনের গ্রহণ করে নিতে হয়। আপিল মঞ্জুর হয়েছে। সুতরাং এখন থেকে মাহমুদুর মান্না বগুড়া-২ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী।”
ইতোমধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে লড়তে পারবেন তিনি।
এর আগে গত ২ জানিুয়ারি বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।
মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে তিনটি বিষয়ের কথা বলেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান।
তিনি বলেছিলেন, “হলফনামার এফিডেভিটে একইদিনে আইনজীবী ও প্রার্থীর সই থাকতে হয়। কিন্তু মান্না যেদিন সই করেছেন, আইনজীবী তার একদিন আগেই সই করেছেন। মান্না যেসব মামলায় খালাস পাওয়ার কথা লিখেছেন, সেগুলোর কাগজপত্র দেননি। আর সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছেন, তাতে ত্রুটি আছে।”
এরও আগে মান্নার নাম ঋণ খেলাপির তালিকায় থাকায় তার ভোটের পথ আটকেছিল। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য তিনি হাই কোর্টে আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়।
সেই আদেশের বিরুদ্ধে মান্না আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে ঋণ পুনঃতফসিল করে সিআইবির তালিকা থেকে নাম কাটানোর আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।
এ আবেদন শুনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গত ২৯ ডিসেম্বর হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে সিআইবির তালিকায় মান্নার নামও স্থগিত করা হয়। ফলে ঋণ সংক্রান্ত জটিলতায় তার নির্বাচন করার জটিলতা কেটে যায়।
বগুড়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করার পর ইসিতে আপিল করেছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আবেদন মঞ্জুর করে কমিশন।















